রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:৫৭ এএম

সম্পাদকীয়

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে হবে

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:৫৭ এএম

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে হবে

রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখন যেন নিয়ন্ত্রণহীন এক পাগলা ঘোড়া। শীত মৌসুমের যে সময়টিতে সবজির বাম্পার সরবরাহ থাকার কারণে দাম স্বাভাবিকভাবে কমে আসার কথা, সেই সময়েও বাজারে আগুন জ্বলছে সবজির দরে। সবজিতে হাত দিলেই পুড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের হাত। রাজধানীর সব বাজারে একই চিত্র। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দাম বাড়ছে, কিন্তু কোনো যুক্তি ছাড়া। সরবরাহ আছে, কিন্তু স্বস্তি নেই। মধ্যবিত্তের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ কোথায়।

গত বছরের চাইতে প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে একেকটি সবজি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রতিচ্ছবি। কোনো সবজির দামই ৮০ টাকার নিচে পাওয়া দুষ্কর। ফলে একসময় নি¤œ আয়ের মানুষের ভরসা সবজি আজ বিলাসদ্রব্যে পরিণত হচ্ছে।

বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন উৎপাদন এলাকাগুলোর ওপর। তাদের দাবি, কৃষকরা নতুন সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন, এবং আগের বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হওয়ায় তারা দাম তুলছেন। এটা সত্য যে,  কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তার অজুহাতে ভোক্তার মাথায় দ্বিগুণ-তিনগুণ দাম চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। বাস্তবে দেখা যায়, কৃষক মাঠে যে দামে সবজি বিক্রি করেন, তার অন্তত দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে শহরে বিক্রি হয়। যা সরবরাহ চেইনের অদক্ষতা, আড়তদারদের প্রভাব, পরিবহন ব্যয়ের অস্বচ্ছতা এবং মনিটরিংয়ের ঘাটতিরই বহির্প্রকাশ।

মাছ-মাংসের বাজারও একইভাবে ক্রেতাদের চাপে ফেলছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা পর্যন্ত। ইলিশের দাম ১,৬০০-৩,২০০ টাকার মধ্যে। এমনকি চাষের মাছ, যার দাম নিয়ন্ত্রণযোগ্য, সেটিও ওঠানামা করছে অস্বাভাবিকভাবে। সার্বিকভাবে নিত্যপণ্যের দামের এই অস্থিতিশীলতা মানুষের জীবনযাত্রায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে, যা শুধু নি¤œ আয়ের মানুষ নয়, মধ্যবিত্তকেও টিকে থাকার প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, বাজারে সরবরাহ কম নয়। প্রতিদিন সরবরাহ বাড়ছে, তবু দাম কমছে না। কারণ, বাজারে এক ধরনের অঘোষিত অরাজকতা চলছে। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই যে নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার অভাব তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ফলে বাজারে অতিরিক্ত মুনাফাখোর চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ চক্র ভোক্তার অসহায়ত্বকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমেও রয়েছে শৈথিল্য। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বাজার মনিটরিং টিমের কার্যক্রম যদি আরও সক্রিয়, নিয়মিত ও কঠোর হতো, তবে আড়তদার-বিক্রেতা চক্র এত সহজে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না। উৎপাদন বৃদ্ধির পরও দাম না কমা, এটি বাজার ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতারই প্রতিফলন।

আমরা মনে করি, উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে মূল্য পর্যবেক্ষণ ও তথ্যপ্রবাহকে ডিজিটাল করতে হবে। কোন এলাকায় কোন সবজির উৎপাদন কত, পাইকারি দাম কত, পরিবহন ব্যয় কত এসব তথ্য স্বচ্ছ হলে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে পারবে না। সেই সঙ্গে আড়ত ও পাইকারি বাজারে অযৌক্তিক মুনাফা দমন করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। মোবাইল কোর্ট চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। বাজারকে মুক্ত স্রোতে ছেড়ে দিলে তা কখনোই মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে না বরং মুনাফাখোরদের হাতে জিম্মি করে দেয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে।

আমরা আশা করব, সরকার দ্রব্যমূল্যের এই পাগলা ঘোড়াকে শক্ত হাতে লাগাম পরাতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নইলে নিয়মিত বাজারে যাওয়া মধ্যবিত্তের দুঃস্বপ্ন একদিন জাতির সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!