নেপালের নবগঠিত সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়। রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর ও অতীতের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমুখী কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে কাঠমান্ডু। নয়াদিল্লি সফরকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে দুই দেশের বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে খানাল জানান, নেপালের নতুন সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক রূপান্তর। সে উদ্দেশ্যে ভারতের সঙ্গে একটি বাস্তবসম্মত, বিশ্বাসভিত্তিক ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার ভাষায়, প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ হলো সীমান্ত যেন বাধা না হয়ে উন্নয়ন ও যোগাযোগের কার্যকর সেতুতে পরিণত হয়। অতীতে কালাপানি ও লিপুলেখ সীমান্ত ইস্যুকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
নেপাল আর পুরোনো ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতকে দেখতে চায় না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভাষা এখন উন্নয়ন, সহযোগিতা ও কূটনীতিকে ঘিরেই আবর্তিত হওয়া উচিত। ভারতকে একটি দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবনী শক্তি এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নেপালও নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। একই সঙ্গে একটি উদীয়মান নেপালের স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষাকে সামনে রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কাগজে-কলমে থাকা প্রতিশ্রুতি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
উন্নয়নমূলক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতির বাস্তব সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই নেপাল-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সার্থকতা প্রমাণ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

