খাদ্যবাহিত রোগকে অনেকেই সাময়িক পেটের সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি ভয়াবহ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে দূষিত খাবার খেয়ে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু জনস্বাস্থ্যের সংকট নয়, বরং খাদ্যনিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতারও প্রতিফলন। গবেষণা অনুযায়ী, দূষিত খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জীবাণু, পরজীবী ও রাসায়নিক উপাদান নানা ধরনের গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও জ্বরের মতো সাধারণ উপসর্গ থেকে শুরু করে রক্তে সংক্রমণ, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মাংস ও ডিম, অপরিশোধিত দুধজাত খাবার, কাঁচা ময়দা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত করা খাদ্য এসব রোগের অন্যতম উৎস। খাবার দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া, রান্নার আগে শাকসবজি ভালোভাবে না ধোয়া এবং প্রস্তুতের সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানাও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। খাদ্যবাহিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় চার লাখ বিশ হাজার পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুর মৃত্যু হয় খাদ্যবাহিত রোগে। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়া ও কলেরার মতো খাদ্য ও পানিবাহিত রোগে প্রতিবছর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। খাদ্যে ভেজাল, অনিরাপদ পানি এবং সংরক্ষণে অসতর্কতা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ঘর থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। খাবার ভালোভাবে রান্না করা, নিরাপদ পানি ব্যবহার, আলাদা পাত্রে খাদ্য সংরক্ষণ, রান্নার পর দ্রুত হিমায়িত রাখা এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, নিরাপদ খাদ্য কেবল রোগ প্রতিরোধের উপায় নয়; এটি সুস্বাস্থ্য, সঠিক পুষ্টি এবং একটি কর্মক্ষম সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তাই খাদ্যনিরাপত্তাকে ব্যক্তিগত অভ্যাসের পাশাপাশি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়ার এখনই সময়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন