- ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শিগগিরই মস্কো সফর করবেন বলে জানিয়েছেন পুতিন
- কিয়েভকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে। না হলে রাশিয়া এ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত
- ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বকে অবৈধ মনে করেন পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এটি ভবিষ্যতের কোনো চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার কিরগিজস্তানে রাষ্ট্রীয় সফর চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুতিন। তিনি স্বীকার করেছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েছে। তবে তিনি বলেন, কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি আছে।
খসড়া পরিকল্পনাটির বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘সাধারণভাবে আমরা একমত যে এটি ভবিষ্যৎ চুক্তিগুলোর ভিত্তি হতে পারে।’
আরও আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শিগগিরই মস্কো সফর করবেন বলেও উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি বলেন, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন দনবাস ও ক্রিমিয়া অঞ্চলের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হয়ে যায়। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে রাশিয়া বেশি সুবিধা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটিকে ন্যাটোতে যোগদানের আকাক্সক্ষা বাদ দিতে বলা হয়েছে।
পরে ইউক্রেনের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইউক্রেনের মুখ্য উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই কিসলিৎস্যা বলেন, সংশোধিত সংস্করণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে ছয় লাখ সদস্যের সীমারেখা তুলে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টিও বাতিল করা হয়েছে।
তবে সর্বশেষ প্রস্তাবটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুতিন তার সর্বশেষ মন্তব্যে বলেছেন, এই পরিকল্পনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো কোনো চূড়ান্ত সংস্করণ এখনো নেই।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাক বৃহস্পতিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন। পরে জেলেনস্কিও নিশ্চিত করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে জেনেভার বৈঠকে আলোচনা করা একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করতে চলতি সপ্তাহে ইউক্রেন ও মার্কিন প্রতিনিধিদল বৈঠক করবে।
আপাতদৃষ্টিতে পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আন্তরিক বলে মনে হলেও কিয়েভ যদি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো ছেড়ে না দেয়, তা হলে রাশিয়া প্রায় চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। এ যুদ্ধে দুই পক্ষেরই কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।
পুতিন বলেন, ‘ইউক্রেনীয় সেনাদের তাদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলো থেকে সরে যেতে হবে, তা হলেই লড়াই থেমে যাবে। যদি তারা না সরে, তা হলে আমরা সশস্ত্র উপায়ে এটি অর্জন করব। এটাই শেষ কথা।’
রুশ নেতা আরও বলেন, ভবিষ্যতের যে কোনো চুক্তিতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও তা মেনে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বকে তিনি অবৈধ মনে করেন।
এছাড়াও পুতিন বলেন, ইউরোপে রুশ বাহিনীর হামলার পরিকল্পনার দাবি হাস্যকর। তিনি বলেন, ‘সত্য হলো, আমরা কখনোই এমন ইচ্ছা পোষণ করিনি। কিন্তু যদি তারা আমাদের মুখ থেকে শুনতে চায়, তা হলে আমরা লিখিত নথি দেব। এতে কোনো আপত্তি নেই।’

