ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

স্থলবাহিনী নিয়ে ফরাসি গবেষণা

শক্তিতে ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেছে রাশিয়া

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৩:০৬ এএম

রাশিয়া এখন তার স্থলবাহিনীর সক্ষমতা এবং সামগ্রিক শক্তির দিক থেকে ইউরোপকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে ফরাসি জাতীয় সংবাদপত্র লে ফিগারো এমনটাই লিখেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ফরাসি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তারা দেখেছেন,  ইউরোপীয় সৈন্যরা আর্টিলারি সিস্টেম, শেল, স্ট্রাইক ড্রোন এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সামরিক সরঞ্জামের দিক দিয়ে ‘গুরুতরভাবে অপ্রতুল’। ইউরোপের জন্য চিহ্নিত আরেকটি দুর্বলতা হলো ‘প্রধান অবকাঠামোগত এবং নিয়ন্ত্রক বাধা’Ñ এতে করে মহাদেশজুড়ে সৈন্যদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হবে।

ফরাসি বিশেষজ্ঞরা স্থলবাহিনীতে রাশিয়ার স্পষ্ট সংখ্যাগত পার্থক্যের উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপের ৭ লাখ ৫০ হাজার সৈন্যের তুলনায় রুশ বাহিনীতে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার সৈন্য রয়েছে। ফরাসি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, যুদ্ধ প্রস্তুতির পার্থক্য এবং ইউরোপের ক্রমাগত ‘রাজনৈতিক বিভাজন’ এসব ব্যবধানকে আরও প্রসারিত করছে।

পশ্চিমা অভিজাত শ্রেণির কিছু নেতা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, পুতিন ইউরোপে হামলা করতে পারে। তবে অন্য কোনো দেশে আক্রমণ করার ইচ্ছার দাবিকে পুতিন ‘মিথ্যা’ এবং ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে একটি সাধারণ রাজনৈতিক বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার কখনো ন্যাটো বা ইইউতে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা নেই।

ইউক্রেনে রাতভর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত তিনজন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার ফলে ইউক্রেনের প্রায় ছয় লাখের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শান্তি আলোচনার মাঝেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। খবর রয়টার্সের।

হামলার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক পোস্টে লিখেছেন, ‘যখন সবাই শান্তি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছে, রাশিয়া তখনো হত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।’ দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, এই হামলায় রাশিয়া প্রায় ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। ২০২২ সাল থেকে মস্কো নিয়মিতভাবেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালিয়ে আসছে। সবশেষ এই হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় শহরটির বিদ্যুৎ কাঠামো অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। যার ফলে শহরের অনেক পরিবার এখন দিনে মাত্র আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে ইউক্রেনের। কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা বলছে, তারা শান্তি চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক প্রস্তাবের কিছু শর্ত মানতে তারা রাজি নয়। বিশেষ করে ইউক্রেন এখন যে ভূখ- নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, সেখান থেকে দেশটি সরে যেতে অনিচ্ছুক এবং ভবিষ্যতে বৈশি^ক বা আঞ্চলিক কোনো জোটে যোগদানের বিষয়ে বিধিনিষেধও মেনে নিতে রাজি নয় তারা।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের আরও ২৩০ জনেরও বেশি সেনাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ সাউথ। গ্রুপটির মুখপাত্র ভাদিম আস্তাফিয়েভ এই দাবি করেন।

রুশ এই মুখপাত্র বলেন, ‘ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ২৪ ঘণ্টায় ২৩০ জনেরও বেশি সৈন্য হারিয়েছে। এ সময়ে রুশ যৌথ বাহিনীর ইউনিট এবং আক্রমণকারী ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনের পাঁচটি সাঁজোয়া যুদ্ধযান (যার তিনটি পশ্চিমা নির্মিত), ১৯টি অটোমোবাইল, চারটি ফিল্ড আর্টিলারি গান, একটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন এবং চারটি গোলাবারুদ ও জ্বালানির গুদামও ধ্বংস করেছে।’ এদিকে সেভেরস্ক দিকের ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনের দুটি ইউএভি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, একটি স্টারলিংক টার্মিনাল এবং ছয়টি যোগাযোগ অ্যান্টেনা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে বলেও উল্লেখ করেন ভাদিম আস্তাফিয়েভ। তিনি আরও জানান, ক্রামাতোরস্ক দিকের ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি স্থলভিত্তিক রোবোটিক কমপ্লেক্স ধ্বংস করে, একটি আর-১৮ অক্টোকপ্টার ভূপাতিত করে, একটি ইউএভি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, একটি স্টারলিংক টার্মিনাল, তিনটি এফপিভি ড্রোন অ্যান্টেনা ও তিনটি যোগাযোগ অ্যান্টেনায় আঘাত হানে। এছাড়া কনস্তানতিনোভকার দক্ষিণাঞ্চলের ড্রোন ইউনিটগুলো শত্রুপক্ষের তিনটি স্থল রোবোটিক সিস্টেম, একটি অস্থায়ী ঘাঁটি এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর ছয়টি ডাগআউট ধ্বংস করেছে বলেও জানান আস্তাফিয়েভ। সূত্র : তাস

রাশিয়া দাবি করেছে, যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনীয় শহর পোকরোভস্কের উত্তরাংশে তাদের হামলাকারী ইউনিটগুলো অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং সিভেরস্কের দক্ষিণে একটি গ্রাম দখল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবি করে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী বলেছে, গত এক দিনে পোকরোভস্ক ফ্রন্টে রাশিয়ার ৫৭টি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং শহরের ভেতরে রুশ ইউনিটগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। ডনেস্ক, দিনিপ্রোপেত্রভস্ক ও জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে রাশিয়া ফ্রন্টলাইনে বিভিন্ন স্থানে চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন চলমান যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। এমন সময় রাশিয়া রণক্ষেত্রে নিজেদের অগ্রগতি দাবি করল।

রুশ সংবাদমাধ্যম পোকরোভস্ককে ডনেস্কের প্রবেশদ্বার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মস্কোর দাবি, শহরটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ডনেস্ক অঞ্চলের ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত সবচেয়ে বড় দুই শহর ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে। রাশিয়ার প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা গেছে, পোকরোভস্ক মস্কোর নিয়ন্ত্রণে এবং পাশের শহর মিরনোহরাদে ইউক্রেনীয় বাহিনী ঘেরাও অবস্থায় আছে। তবে ইউক্রেনীয় মানচিত্রে পোকরোভস্ককে ‘ধূসর অঞ্চল’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, অর্থাৎ কোনো পক্ষই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। মিরনোহরাদকেও পুরোপুরি ঘেরাও অবস্থায় দেখায়নি কিয়েভ।