ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

এসওপি

পরিকল্পিত লেখা বদলে দিতে পারে ভবিষ্যৎ

স্বপ্নবাজ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০২:০৬ এএম

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনপত্রের মধ্যেই থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি)। এই ছোট্ট দলিলই আবেদনকারীর আগ্রহ, যোগ্যতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।

এসওপি আসলে কী?

স্টেটমেন্ট অব পারপাসকে অনেকে লেটার অব ইনটেন্ট, রিসার্চ স্টেটমেন্ট বা আগ্রহপত্রও বলেন। উচ্চশিক্ষার কারণ, পছন্দের বিষয়, গবেষণা আগ্রহ, পেশাগত লক্ষ্য, এসব প্রশ্নের পরিষ্কার জবাব সংক্ষেপে কিন্তু সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরা হয় এই লেখায়।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বোর্ড বা সম্ভাব্য সুপারভাইজার আবেদনকারীর চরিত্র, নিষ্ঠা, গবেষণার প্রস্তুতি এবং প্রোগ্রামটির সঙ্গে উপযুক্ততার বিষয়টি সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন এসওপির মাধ্যমেই। বিশেষত গবেষণাধর্মী প্রোগ্রাম, মাস্টার্স (থিসিসভিত্তিক) ও পিএইচডিÑ এসওপিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

কেমন হওয়া চাই একজন আবেদনকারীর এসওপি?

স্বচ্ছ লক্ষ্য ও স্পষ্ট পরিকল্পনা

আপনি কেন পড়তে চান, কোন বিষয়টি আপনার কৌতূহল জাগায়, কী গবেষণা করতে চান, এসব স্পষ্ট করে বলতে হবে। অস্পষ্ট ধারণা ভর্তি প্রক্রিয়ায় আপনাকে দুর্বল করে দেবে।

অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের গল্প

যে গবেষণা বা বিষয়ের প্রতি আপনি আগ্রহী, তা যেন শুধুই দাবিতে না থাকেÑ বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রকল্প, থিসিস, উপস্থাপনা বা কর্মজীবনের উদাহরণ থাকুক। গল্পের মতো করে তুলে ধরতে হবে আপনার শেখার যাত্রা।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের সঙ্গে সামঞ্জস্য

আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করছেন, তার গবেষণা ল্যাব, ফ্যাকাল্টি, কোর্স স্ট্রাকচার বা গবেষণা সুবিধা আপনার লক্ষ্যকে কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, সেটি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। ভর্তি কমিটি জানতে চায়, আপনি সত্যিই এই প্রোগ্রামের জন্য উপযুক্ত কি না।

ভাষায় সতর্কতা

অনেকেই কঠিন বা রঙচঙে ইংরেজি ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চায় পরিষ্কার, সৎ ও শুদ্ধ ভাষা। বানানো তথ্য বা অত্যুক্তি বরং নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।

কীভাবে লিখবেন এসওপি

নিজের তথ্য সংগ্রহ

একটি আলাদা পৃষ্ঠায় আপনার যোগ্যতা, শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড, গবেষণা, প্রকল্প, কাজের অভিজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ সব সাজিয়ে লিখে রাখুন।

বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জেনে নিন

পছন্দের প্রোগ্রাম, ভর্তির যোগ্যতা, সম্ভাব্য সুপারভাইজার, গবেষণার ক্ষেত্র ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো নোট করে রাখুন।

দুই দিকের সংযোগ তৈরি

আপনার অতীত অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ, দুটির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করুন। ব্যাখ্যা করুন, কীভাবে পূর্বের অভিজ্ঞতা আপনাকে এই প্রোগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে আপনি জ্ঞানকে প্রয়োগ করবেন।

লেখা, সম্পাদনা ও পরিমার্জন

রচনাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেন একটি ধারাবাহিক গল্প হয়। লেখা শেষে কয়েকবার রিভিশন দিন। শিক্ষক, সিনিয়র বা অভিজ্ঞদের দিয়ে পড়িয়ে নিন। প্রয়োজনে এআই-সহায়তা নিয়ে ভাষা ও গঠন আরও পরিষ্কার করা যেতে পারে, তবে কপি-পেস্ট নয়।

নিজের মৌলিক পরিচয়ই বড় শক্তি

ইন্টারনেটে বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের এসওপি পাওয়া যায়। সেগুলো কেবল ধারণা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু অনুকরণ করলে নিজের মৌলিকতা হারিয়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার যাত্রা একটি সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি। এর ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে থাকে একটি শক্তিশালী এসওপিÑ যেখানে থাকে স্বপ্ন, পরিকল্পনা, অভিজ্ঞতা আর নিজেকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। সময় নিয়ে, সৎভাবে এবং মনোযোগ দিয়ে লেখা একটি ভালো এসওপি উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দিতে পারে সহজেই।