রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৩:২০ এএম

জানালেন গভর্নর

আগামী সপ্তাহেই সম্মিলিত ব্যাংক চালু হবে

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৩:২০ এএম

আগামী সপ্তাহেই সম্মিলিত ব্যাংক চালু হবে

আগামী সপ্তাহ থেকে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স পাঁচটি ব্যাংকে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠন করা হবে। ‘আমরা আশাবাদী, আগামী সপ্তাহেই লঞ্চিং হয়ে যাবে। এতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পেইড-আপ ক্যাপিটাল থাকবে। আমরা পাঁচ দুর্বল ব্যাংক নিয়ে একটি সবল ব্যাংক গঠন করতে যাচ্ছি। এতে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের যে চিত্র, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন গভর্নর।

তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে অনেক বড় একটা সমস্যা। বর্তমানে ৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ। এটা কোনো ছোটখাটো সমস্যা নয়। এক-তৃতীয়াংশের বেশি খেলাপি ঋণ হয়েছে। এটা ধরে নিয়েই আমাকে ব্যাংক খাত চালাতে হবে। আর এ চিত্র থেকে উত্তরণের জন্য ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাবে।’

দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) আইন মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন গভর্নর। ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব রকমের সাহায্য পাওয়া যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘কোন কোন ব্যাংক ও এনবিএফআই খারাপের দিকে যাচ্ছে, তাদের সতর্ক করা হবে এবং পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হবে না, বিশেষ কারণেও হবে না। যখন দরকার হবে, তখন করা হবে। এটার জন্য আইন করা হয়েছে, আলাদা বিভাগ করা হয়েছে। তা ছাড়া ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করতে যাচ্ছি। এতে সরকার পুরোপুরিভাবে কমিটেড।’

গভর্নর আরও বলেন, ‘আগামী দিনে নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার আসবে, তারা এটা অনুধাবন করবে। যেহেতু আর্থিক খাতে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেটা মোকাবিলা করার জন্য যে প্রক্রিয়াগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটাকেও তারা বিশ্লেষণ করে সমর্থন করবে এবং এ প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডলার রয়েছে। আমি আগেও বলেছিলাম, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ডলার মার্কেটকে স্থিতিশীল করতে হবে। বর্তমানে ডলার মার্কেট স্থিতিশীল রয়েছে বরং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি স্ট্যাবল রয়েছে। কারণ আমি গভর্নর হিসেবে যখন যোগদান করি, তখন ডলারের দর ছিল ১২০ টাকা, আর এখন ১২২ টাকা ৫০ পয়সা। কোনো রকমের ইন্টারভেনশন হচ্ছেও না, আর পুরোপুরি মার্কেট-বেজড অপারেশন হচ্ছে। তাই আমরা যত ইচ্ছা আমদানি করতে পারব। কেউ যদি বলেন আমদানি করতে পারছেন না, তাহলে এটা ওনার সমস্যা। ব্যাংকে ডলারের কোনো অভাব নেই। আপনারা (ব্যবসায়ী) টাকা নিয়ে আসতে পারলে যেকোনো অ্যামাউন্টের এলসি খুলতে পারবেন। আর টাকা নিয়ে আসার দায়িত্ব আপনাদের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব রকমের মার্জিন তুলে দিয়েছে। গভর্নর আরও বলেন, আগের রমজানে পণ্য আনার ক্ষেত্রে একরকম চ্যালেঞ্জ ছিল। পর্যাপ্ত ডলার দিয়েই সরবরাহ ঠিক করা হয়েছিল। তবে আসন্ন রমজানে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। কারণ রমজানে যেসব ভোগ্যপণ্য লাগে, তার প্রতিটির এলসি খোলা আগেই হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান দিয়ে বললে হবে না যে আমদানি কম। কারণ আমদানির বিপরীতে পাচার বন্ধ হয়েছে। গভর্নর বলেন, নীতি সুদহারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির গ্যাপ হওয়া উচিত আড়াই থেকে তিন শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমানে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি। এটা এর চেয়ে কম কিংবা ৭-এর ঘরে নিয়ে এলে নীতি সুদহার কমানো হবে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন।

বিআইডিএস মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই ‘চোর ধরা’ মনোভাবভিত্তিক। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। একটি অর্থনীতি যদি আস্থানির্ভর না হয়, তাহলে ব্যবসা বা বিনিয়োগ কিছুই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোতে পারে না। আস্থা ছাড়া অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।’

এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম করার মতো দায়বদ্ধতার কাঠামো নেই। দেশের করব্যবস্থা আজও ‘জমিদারি ব্যবস্থার’ মতো আচরণ করে। ব্রিটিশ শাসনে জমিদারের কাজ ছিল কর আদায়। দেশের উন্নতির দায়িত্ব তাদের ছিল না। আজকের কর সংগ্রহেও একই মানসিকতা দেখা যায়Ñ যেন দেশের উন্নতি নয়, শুধু কর আদায়ই মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সূচকে আমরা ক্রমেই নিচের দিকে নামছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়ে গেছে। এটি বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আমরা প্রাইভেট সেক্টর মাত্র ৬ শতাংশ ঋণ পাচ্ছি। এ অবস্থায় শিল্পায়ন পুরোপুরি স্থবির বলা যায়।’

বিএসএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি কোম্পানি লাভ করুক বা লোকসান করুক, তাকে কর দিতে হচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও এভাবে লোকসানেও কর দিতে হয় কি না, জানা নেই। সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, দেশের ব্যাংকগুলোতে এখন সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। আগে বোর্ডরুমে বসে ঋণ বিক্রি করা হতো। এখন নিয়ম অনুসারে অনুমোদন হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সংগত কারণেই হয়তো সময় নিচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের পরে বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে জানান তিনি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!