ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা

মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৫:১৭ এএম

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত মামলার রায় ও মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ের নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায়সহ মামলার মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদ-ে দ-িত করা হয়। জরিমানার অর্থ স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করলে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। বিচারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিচারিক ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার। গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে থাকা স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ।

পরদিন ২০ মে সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই দিন স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর থেকে দুই আসামিই কারাগারে রয়েছেন। এদিকে ডেথ রেফারেন্স শুনানির মাধ্যমে এখন মামলাটি উচ্চ আদালতের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল।