রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


জুবায়ের আহমেদ, লন্ডন ও রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:১৬ এএম

নিরাপত্তা ইস্যুতে সবুজ সংকেতের অপেক্ষা

মাকে দেখতে ব্যাকুল তারেক রহমান

জুবায়ের আহমেদ, লন্ডন ও রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:১৬ এএম

মাকে দেখতে ব্যাকুল তারেক রহমান

গুরুতর অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। মায়ের জন্য গত বৃহস্পতিবার কেঁদেছেন অঝোরে। ইতোমধ্যে দেশে ফেরার সকল প্রস্তুতি সেরে নিলেও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। নিরাপত্তা ইস্যুতে সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করছেন তিনি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির এক নেতা এ প্রসঙ্গে জানান, বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থাকা অবস্থায় তারেক রহমানকে এখনই ফিরতে বারণ করেছিলেন। তিনি আরও জানান, বেগম জিয়া সেসময় ছেলেকে বলেছিলেন সবকিছু ক্লিয়ার না হলে এবং উনার সম্মতি না নিয়ে তিনি যেন দেশে না ফিরেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন শুনেই সবকিছু উপেক্ষা করে ফিরতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু সবুজ সংকেত না থাকায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। গতকাল শনিবার সকালে ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছেন, তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’।

পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাক্সক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।’

তিনি আরও লেখেন, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’

যুক্তরাজ্য বিএনপির শীর্ষ এক নেতা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে তারেক রহমানের লন্ডন ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি অপারগ। তার সঙ্গে না হলেও ভিন্ন ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য বিএনপির ঘনিষ্ঠ কিছু নেতা দেশে ফিরবেন। আপাতত বিষয়টি নিরাপত্তা ইস্যুতে ঝুলে রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন বলে জানান।

বিশিষ্ট আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার নাজির আহমদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তারেক রহমান উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের কার্যত প্রধান ব্যক্তি। তার দল তো বটেই, বাংলাদেশের মধ্যে অসম্ভব জনপ্রিয় নেতা। তার অনুপস্থিতি তার জনপ্রিয়তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার দল নির্বাচনে জয়ী হলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান জিয়া পরিবারের লিগ্যাসি বহনকারী আমাদের প্রজন্মের সর্বশেষ ব্যক্তি, বংশের চেরাগ। তিনিই বর্তমান বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যার পিতা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মাতা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নিশ্চয়ই তার নিরাপত্তার ব্যাপারটি সর্বোচ্চ বিবেচনার দাবি রাখে তার দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এবং আগামীর বাংলাদেশের স্বার্থে।’

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হননি। দেশের সবকিছুর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এখনও পতিত সরকার কর্তৃক গণঅভ্যুত্থান ঠেকানোর নামে তাদের দলীয় সন্ত্রাসীদের দেওয়া মারাত্মক অস্ত্রগুলো (যেমন একে-৪৭, লেথাল উইপন, গ্রেনেড ইত্যাদি) উদ্ধার করতে পারেনি। তাছাড়া তারেক রহমানকে যারা নির্মমভাবে নির্যাতন করেছিল ওই সময়ে মাঠ পর্যায়ের/জুনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তা হলেও হাল আমলে অনেক উঁচু ও প্রভাবশালী পজিশনে আছে বা রয়েছে। তাছাড়া তাকে নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবকিছু মিলিয়ে তারেক রহমানের নিরাপত্তা কনসার্ন সত্যিই বাস্তব ও যৌক্তিক। সুতরাং এ নিয়ে না বুঝে, অতি আবেগী হয়ে, বিরোধিতার কারণে বা রাজনৈতিক কারণে হালকা বা তির্যক মন্তব্য করা ঠিক নয়। তারেক রহমান অবশ্যই দেশে যাবেন, তাকে যেতেই হবে। তবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে শতভাগ সরকারকে ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরতে সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধিনিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই। ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব লিখেছেন, ‘তারেক রহমানের বক্তব্য যে, এখনই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়Ñ এটা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তার (তারেক রহমান) বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে কিনা। প্রেস সচিব জানান যে, এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধিনিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নাই।

জানা যায়, শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তার পরিবার। এ লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। লন্ডন থেকে চিকিৎসার বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। বেগম জিয়া যদি লন্ডনে যান তবে সেখানে তাকে দেখভাল করতে তিনি থেকে যাবেন। তিনি ইতোমধ্যেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও দলীয় মুখপাত্র মাহদী আমিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি, নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। চলতি বছর লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী।’ তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!