- দুই সেনাপ্রধানসহ সামরিক বাহিনীর সাবেক ১২ কর্মকর্তা অভিযুক্ত
- এসেছে পুলিশের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তা ও তিন সাংবাদিকের নাম
পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নারকীয় হত্যাকা-ের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পেয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। কমিশন বলছে, নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞের মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। তদন্ত কমিশন শেখ হাসিনাসহ ১৬ জন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর বাইরে সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তা ও তিন সাংবাদিকসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
তদন্ত কমিশনের সুপারিশে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জন রাজনীতিবিদ হলেন- ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মাহবুব আরা গিনি, আসাদুজ্জামান নূর, তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ, মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.), শাহীন সিদ্দিক (স্বামী-মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিক), লে. কর্নেল ফারুক খান (অব.), মেহের আফরোজ চুমকি, লেদার লিটন (তোরাব আলীর পুত্র) ও মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ (অব.)।
এছাড়া সাবেক দুই সেনাপ্রধানসহ সামরিক বাহিনীর সাবেক ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিশন। তারা হলেন- জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ (প্রাক্তন সেনাপ্রধান), ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দীন আহম্মেদ (প্রাক্তন নৌবাহিনীপ্রধান), এয়ার মার্শাল এসএম জিয়াউর রহমান (প্রাক্তন বিমানবাহিনী প্রধান), লে. জেনারেল সিনা ইবনে জামালী, জেনারেল আজীজ আহমেদ, লে. জেনারেল মো. মইনুল ইসলাম, লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হাকিম আজিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব সারোয়ার। জিডিএফআইয়ের চারজন হলেন- লে. জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবর (অব.), লে. জেনারেল মামুন খালেদ (অব.), মেজর জেনারেল ইমরুল কায়েস (অব.) ও মেজর জেনারেল সুলতানুজ্জামান সালেহ উদ্দীন (অব.)।
পাশপাশি সাবেক দুই আইজিপিসহ পুলিশের পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিশন। এছাড়াও এনএসআইয়ের দুজন, র্যাবের চারজন ও বিডিআরের তিনজন কর্মকর্তা এবং তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। তারা হলেন- এনএসআইয়ের মেজর জেনারেল শেখ মুনিরুল ইসলাম (অব.), মেজর জেনারেল টিএম জোবায়ের (অব.)। র্যাবের তৎকালীন ডিজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মেজর জেনারেল রেজানুর রহমান খান (অব.), মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিম আহমেদ (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর ইন্টেলিজেন্স র্যাব)। এছাড়া বিডিআরের কর্নেল সাইদুল কবির (অব.), লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ (অব.), মেজর গোলাম মাহবুবুল আলম চৌধুরী (অব.)। তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্য পালনে অবহেলা, অনিয়ম, ষড়যন্ত্র এবং ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহায়তার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তিন সাংবাদিকের নাম। তারা হলেনÑ মুন্নী সাহা, জ.ই মামুন ও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তোলে। বিদ্রোহের পর সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর বিডিআর নাম বদলে করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। পরিবর্তন করা হয় ইউনিফর্মও।
বিডিআর হত্যাকা-ের ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানকে সভাপতি করে আট সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশনকে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ঘটনার প্রকৃতি ও স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে বলা হয়। নৃশংস এ হত্যাকা-ের ঘটনা ১১ মাস ধরে তদন্তের পর প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশন। এরপর গত রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন