ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

স্মার্টফোনের মতো চার্জ হবে বিশ্বকাপের বল

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

মাঠে বল গড়াতে আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নানা কারণেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। ৪৮ দলের রেকর্ড অংশগ্রহণ কিংবা তিন দেশের যৌথ আয়োজনÑ সবকিছুকে ছাপিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে মাঠের ফুটবলে! আধুনিক প্রযুক্তির এক অবিশ্বাস্য ছোঁয়ায় এবার মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপের মতোই ফুটবলকে মাঠে নামানোর আগে চার্জ দিতে হবে। শুনতে অদ্ভুত এবং সায়েন্স-ফিকশন সিনেমার মতো মনে হলেও, নিখুঁত ও বিতর্কহীন ম্যাচ উপহার দিতে ফুটবল বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলে এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অ্যাডিডাসের নতুন আবিষ্কার ‘ট্রিওন্ডা’ : ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ থেকে টানা অফিশিয়াল বল তৈরি করে আসছে বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০২৬ আসরের জন্য তাদের তৈরি করা বিশেষ বলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা’। বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত আধুনিক ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’, যা মাঠের রেফারিদের যেকোনো কঠিন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চোখের পলকে নিখুঁতভাবে নিতে সাহায্য করবে।

বলের ভেতরের অদৃশ্য চিপ ও নিখুঁত বিজ্ঞান : বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ চামড়ার ফুটবল মনে হলেও, এই স্মার্ট বলের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য বিজ্ঞান। বলটির ভেতরে একটি ৫০০ হার্জের ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট সেন্সর চিপ বসানো আছে। একটি বিশেষ ঝুলন্ত বা সাসপেনশন সিস্টেমের মাধ্যমে চিপটিকে বলের ভেতরে আটকে রাখা হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বলেও চিপ ছিল, তবে সেটির সেন্সর ছিল বলের ঠিক মাঝখানে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ‘ট্রিওন্ডা’ বলের সেন্সরটি বসানো হয়েছে বলের ভেতরের এক পাশে। খেলা চলাকালে কোনো খেলোয়াড় যখনই বলে কিক করেন বা স্পর্শ করেন, এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করে সরাসরি মাঠের বাইরে থাকা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেমে পাঠিয়ে দেয়। ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা গোললাইন প্রযুক্তির নিখুঁত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হয়।

তারহীন চার্জিং পদ্ধতি এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ : যেহেতু বলের ভেতরে সেন্সর রয়েছে, তাই সেটি সচল রাখতে শক্তির প্রয়োজন। আর এই শক্তির জোগান দেয় বলের ভেতরে থাকা একটি ছোট রিচার্জেবল ব্যাটারি। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘কাইনেক্সন’ জানিয়েছে, ম্যাচ শুরুর আগে ভেন্যুর ড্রেসিংরুমে একটি বিশেষ কাস্টমাইজড চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে বলগুলোকে সম্পূর্ণ তারহীন বা ওয়্যারলেস পদ্ধতিতে চার্জ করা হয়। এই ব্যাটারিটি সম্পূর্ণ ফুল চার্জ হতে সময় নেয় মাত্র ৯০ মিনিট। একবার ফুল চার্জ দিলে এই বল দিয়ে টানা ৬ ঘণ্টা মাঠে খেলা সম্ভব। এ ছাড়া বলটি যখন মাঠের বাইরে বা অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে, তখন এটি নিজে থেকেই ‘স্লিপ মোড’-এ চলে যায়। ফলে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ডিজাইনে তিন আয়োজক দেশের ঐতিহ্য : প্রযুক্তির পাশাপাশি বলটির চমৎকার ডিজাইনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যৌথ আয়োজক তিন দেশের সংস্কৃতি। বলের গায়ে লাল, সবুজ ও নীল রঙের দৃষ্টিনন্দন মিশ্রণ রয়েছে। এর ওপর আইকন হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল পাখি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা বা স্টার। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ট্রিওন্ডা’ কেবল একটি ফুটবল নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য স্মারক।