প্রযুক্তি বিশ্বের চোখ এখন অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন ‘ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬’-এর দিকে। বরাবরের মতো এবারও অ্যাপলপ্রেমীদের জন্য থাকছে বড় সব চমক। তবে এবারের মূল আকর্ষণ কোনো হার্ডওয়্যার নয়, বরং অ্যাপলের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’র এক আমূল রূপান্তর। প্রতিযোগিতার বাজারে গুগল ও ওপেনএআইর মতো জায়ান্টদের টেক্কা দিতে অ্যাপল এবার নিয়ে আসছে এমন কিছু ফিচার, যা আমাদের আইফোন বা ম্যাক ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।
সিরির নতুন এআই অবতার
এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে সিরির মেকওভার। দীর্ঘদিনের চেনা সিরি এবার রূপ নিচ্ছে এক চতুর চ্যাটবটে। এটি এখন মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবে এবং আগের কথার সূত্র ধরে পরের কথার প্রসঙ্গ বুঝতে পারবে। পর্দার পেছনের জটিল কাজগুলো সহজে করার জন্য অ্যাপল এখানে গুগলের জেমিনি প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো সিরির একটি নিজস্ব বা স্ট্যান্ডঅ্যালোন অ্যাপও দেখা যেতে পারে এবার, যেখানে ব্যবহারকারীরা চ্যাটের ইতিহাস সংরক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সুবিধা পাবেন।
অ্যাপ স্টোরে এআই এজেন্টের আগমন
অ্যাপল এবার এমন এক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যা কেবল আপনার আদেশ শুনবেই না, বরং আপনার হয়ে কাজও করে দেবে। অ্যাপ স্টোরের সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া এই ‘এআই এজেন্ট’ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন কাজ যেমনÑ রেস্তোরাঁর টেবিল বুক করা, স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা যেকোনো নথি সম্পাদনা করার মতো জটিল কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ছেড়ে দিতে পারবেন।
ক্যামেরায় ভিজ্যুয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ছবির জাদুকরী রূপান্তর
আইফোনের ক্যামেরা অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে ‘ভিজ্যুয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নামের একটি ডেডিকেটেড মোড। এর মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে থাকা যেকোনো বস্তু বা স্থানকে নিমেষেই চিনে নেওয়া যাবে, যা ব্যাকএন্ডে গুগলের ইমেজ সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। পাশাপাশি ফটোস অ্যাপেও আসছে বড় পরিবর্তন। নিখুঁতভাবে ছবি থেকে অনাকাক্সিক্ষত বস্তু মুছে ফেলার পাশাপাশি এখন থেকে সাধারণ মুখের কথায় বা টেক্সট লিখে ছবি এডিট করা যাবে। যেমন সিরিকে বললেই সে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডের আকাশকে আরও নীল বা সুন্দর করে দেবে।
ইমেজ প্লেগ্রাউন্ড এবং কাস্টম জেনমোজি
ছবি ও ইমোজি নিয়ে খেলা করার জন্য ‘ইমেজ প্লেগ্রাউন্ড’ অ্যাপটিকে আরও উন্নত করা হচ্ছে। এর ফলে আরও নিখুঁত ও নান্দনিক ছবি তৈরি করা যাবে। ব্যবহারকারীর চ্যাট ও পছন্দের ওপর ভিত্তি করে কাস্টম ইমোজি বা ‘জেনমোজি’ তৈরির সুবিধাও থাকছে। এমনকি ব্যবহারকারীরা নিজেদের মনের মতো করে এআই দিয়ে তৈরি করে নিতে পারবেন আকর্ষণীয় ওয়ালপেপার।
ওয়ালেট অ্যাপের স্মার্ট সুবিধা
দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ সহজ করতে ওয়ালেট অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে দারুণ কিছু ফিচার। বন্ধুদের সঙ্গে রেস্তোরাঁর বিল ভাগাভাগি করার জন্য এখন আর ক্যালকুলেটর চাপতে হবে না। যেকোনো বিলের ছবি তুললেই ওয়ালেট অ্যাপের এআই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে বন্ধুদের কাছে পেমেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দেবে। এ ছাড়া যেকোনো কাগজের টিকিট বা মেম্বারশিপ কার্ড স্ক্যান করে ডিজিটাল পাস তৈরির সুবিধাও যুক্ত হচ্ছে এতে।
সব ডিভাইসে এআইর ছোঁয়া
আইফোনের পাশাপাশি ম্যাকওএস, আইপ্যাডওএস কিংবা ভিশনওএসের মতো অ্যাপলের অন্যান্য সব প্ল্যাটফর্মেই সিরির এই এআই রূপান্তর দেখা যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই নতুন জোয়ারে অ্যাপল তার ইকোসিস্টেমকে আরও বেশি স্থিতিশীল ও ব্যবহারকারী-বান্ধব করার লক্ষ্য নিয়েই এবারের বিশ্বমঞ্চে হাজির হয়েছে।

