ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

অক্সফোর্ডের ডিগ্রি নিয়েও নাম লেখালেন ফুড ডেলিভারিতে

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:৪৭ এএম

অক্সফোর্ডসহ বিশ্বের নামি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাওয়া মানুষটির জীবন নির্ভর করছে ফুড ডেলিভারি কাজের ওপর। শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবেও ঘটেছে তাই। সম্প্রতি চীনের সামাজিক মাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এমনই একজন। তিনি হলেন ৩৯ বছর বয়সি ডিং ইউয়ানঝাও। তাকে বলা হচ্ছে, ‘সবচেয়ে উচ্চশিক্ষিত খাবার সরবরাহকারী কর্মী।’ খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।

ডিং ইউয়ানঝাওর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিস্ময়কর। তিনি চীনের বিখ্যাত সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনার্জি স্টাডিস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এখানেই থামেননি, সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে জীববিজ্ঞানে পিএইচডি করেছেন। এরপর ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববৈচিত্র্য বিষয়ে আরেকটি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পর স্বাভাবিকভাবেই তার প্রত্যাশা ছিল উপযুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পেশার সুযোগ মিলবে। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ডিং জানান, তিনি অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, সাক্ষাৎকারে অংশও নিয়েছেন বেশ কয়েকটি। তবুও সন্তোষজনক বা স্থায়ী কোনো চাকরি মেলেনি। একসময় তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক গবেষক হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো উপযুক্ত সুযোগ না পেয়ে জীবিকার জন্য বাধ্য হয়ে ফুড ডেলিভারি কাজ বেছে নিতে হয়।

তবে এই সিদ্ধান্তে হতাশ নন ডিং। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, এই কাজ তাকে নিয়মিত আয় এনে দেয় এবং তার পরিবারকে সমর্থন করার মতো স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে। তার ভাষায়, ‘এটা খারাপ কাজ নয়। পরিশ্রম করলে ভালো আয় করা সম্ভব। উপরন্তু সারা দিন সাইকেল চালিয়ে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে শরীরচর্চাও হয়ে যায়।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, সমাজে কাজের মর্যাদা ডিগ্রি দিয়ে মাপা ঠিক নয়। মানুষ জীবনের বিভিন্ন অবস্থায় নানা ধরনের কাজে যুক্ত হয় এবং প্রতিটি কাজেরই একটি সামাজিক মূল্য রয়েছে।

অনেকে তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ব্যক্তিগত শিক্ষকতা বা টিউশন করানোর জন্য। কিন্তু ডিং জানান, তিনি স্বভাবতই অত্যন্ত লাজুক, তাই নিজে থেকে ছাত্র সংগ্রহ বা প্রচার করার মতো আত্মবিশ্বাস তার নেই। তবুও, সম্প্রতি চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন, হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বলেছেন।

ডিংয়ের অভিজ্ঞতা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছেন, এত উচ্চশিক্ষার পরও যদি পেশাগত স্থিতি না পাওয়া যায় তাহলে তার মূল্য কী? আবার অনেকেই ডিংয়ের মানসিক দৃঢ়তা, বাস্তবতাকে গ্রহণ করার ক্ষমতা ও পরিশ্রমী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। তাদের মতে, ডিং দেখিয়ে দিয়েছেন যেকোনো পরিস্থিতিতে মর্যাদা বজায় রেখে কাজ করা এবং পরিবারকে সমর্থন করা নিজেরই এক ধরনের সাফল্য।