ঝিনাইদহ শহরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরির আঘাতে চাচা মুরাদ ম-ল (৩৭) নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে পৌরসভার পবহাটি সিটি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদ পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং যুবদলের কর্মী। সে পবহাটি এলাকার মৃত আফজাল ম-লের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, গত সপ্তাহে মুরাদ ম-লের পিতা আফজাল ম-ল মারা যান। গত শুক্রবার বাবার মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুরাদের চাচাতো ভাই আলম ম-ল বলে, ‘তোরা ফাতেহা না করে মিলাদ করলি, ভিক্ষা করে করতে পারতি।’ এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে মুরাদ তার চাচাতো ভাই আলমকে থাপ্পড় মারে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই মুরাদকে খুঁজতে থাকে আলম ম-লের ছেলে সৌরভ ম-ল। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মুরাদ ম-ল তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের সিমেন্টের দোকানে বসে ছিল। সে সময় সৌরভ কয়েকটি মোটরসাইকেলে ৯-১০ জনকে সাথে নিয়ে ওই দোকানে হামলা করে। এ সময় মুরাদের মাথায় কুপিয়ে এবং পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা তিনটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মুরাদকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘হাসপাতালে আসা মুরাদের নাভি বরাবর ছুরির আঘাতের ক্ষত পাই। নিহতের মাথায়ও ক্ষত ছিল। শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে তার মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘কয়েকজন লোক হঠাৎ করেই দোকানে আসে। এদের সবার বয়সই আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর হবে। এর মধ্যে কয়েকজন দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে। যারা দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে ওরাই মুরাদকে মেরেছে। শুধু ওর (নিহত মুরাদ) ভাস্তে সৌরভকে চিনতে পারছি আর বাকিদের চিনতে পারিনি।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

