বিশ্বজুড়ে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থূলতা বা ওবেসিটি। শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে দিচ্ছে আয়ু। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা, খাওয়া-দাওয়া শেষ করেই বিছানায় শুয়ে পড়ার এমন ছোট ছোট বিষয়ই বড় রোগ ডেকে আনছে শরীরে। কিন্তু যাদের হাতে শরীরচর্চা করার সময় নেই, কিংবা ৭-৮ ঘণ্টা একটানা বসে কাজ করতে হয়, তারা কী করবেন? গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা বলছেন, প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করতে হবে। এতে শরীরে মিলবে হরেক রকম উপকারিতা
রক্তে শর্করার মাত্রা ৩০% কমে :
ডায়াবেটিকের রোগীদের জন্য ভীষণ উপকারী পোস্ট মিল ওয়াকিং। খাওয়া শেষে ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ১০ মিনিটের হাঁটাচলায় চট করে সুগার লেভেল বাড়ে না।
বাড়ে ইনসুলিন সেনসিটিভি :
খাওয়ার পর ১০ মিনিট চলাফেরা করলে ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা বজায় থাকে। তাই আরও সুগার লেভেল বাড়ে না। পাশাপাশি বিপাক হার ভালো থাকে এবং একাধিক রোগের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
খাবার হজম হয় ভালো :
ঘন ঘন বদহজমের সমস্যায় ভোগেন? তা হলে অবশ্যই খাওয়া-দাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার থেকে শরীর দ্রুত পুষ্টি পায় এবং বদহজম হয় না। পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বলের মতো সমস্যা সহজেই এড়ানো যায়।
পেট ফাঁপা এড়ানো যায় :
যে খাবারই খান, তার পরেই গ্যাসে পেট ফুলে যায়। এই ব্লোটিং মোটেই ভালো বিষয় নয়। বিশেষত রাতে ভারী খাবার খেলে অনেকেই এই ব্লোটিংয়ের মুখোমুখি হন। যদি খাওয়ার শেষে ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করেন, তা হলে এই সমস্যাও এড়ানো যায়।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমে :
চুকা ঢেকুর, বুক জ্বলার মতো উপসর্গ জানান দেয় যে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত হলে সাবধান। এতে বোঝা যায়, আপনার হজম স্বাস্থ্য একেবারেই ভালো নেই। কিন্তু খাওয়ার শেষে ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে আর অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যাতেও ভুগতে হবে না।
ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে :
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ভাজাভুজি, তেল ও ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি শরীরচর্চাও জরুরি। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ১০ মিনিট হাঁটলেই কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। এতে হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
রাতে ঘুম ভালো হয় :
ডিনারে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই মাঝরাত থেকে পেটের সমস্যা শুরু হয়ে যায়। খাবার ঠিকমতো হজম না হওয়ায় রাতের ঘুমও ব্যাহত হয়। কিন্তু ডিনারের শেষে ১০ মিনিট হাঁটলে খাবার দ্রুত হজম হয়ে যাবে এবং রাতে ঘুমও ভালো হবে। এ ছাড়া দিনে ৭ বা ১০ হাজার স্টেপ হাঁটলে স্ট্রেস কমে এবং ঘুম ভালো হয়।

