রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:২২ এএম

সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা

দেশের তিনটি ফল্টে বেড়েছে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:২২ এএম

দেশের তিনটি ফল্টে বেড়েছে  ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি

টেকটোনিক প্লেটের তিনটি ফল্টের কারণে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয়Ñ এই তিন সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ। এই তিনটি ফল্ট হলোÑ সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি, বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ এবং সংকীর্ণ সড়ক ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড ছিল সেমিনারটির আয়োজক।

সেমিনারে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগই একটি ভূমিকম্প-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে বলে সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা অভিমত ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জাপানের দুই ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো এবং হেসাইয়ে সুগিয়ামা। তারা জাপানের ভূমিকম্প-পরবর্তী অভিজ্ঞতা, নিরাপদ অবকাঠামো নকশা এবং আধুনিক টেকসই নির্মাণমান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।

বক্তারা বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনগুলোর স্ট্রাকচারাল অডিট, কাজের মান কঠোরভাবে তদারকি, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত ড্রিল, সচেতনতা কার্যক্রম এবং পরিবারভিত্তিক জরুরি প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকায় অনুভূত একাধিক ভূমিকম্প দেশের ঝুঁকি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং দুর্বল ভবন কাঠামোর কারণে বড় কোনো ভূমিকম্প ঘটলে ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে। তাই সচেতনতা, প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন খ্যাতিমান প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, বুয়েটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন, রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান (বুয়েট), বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান, বিএমইডির পরিচালক মমিনুল ইসলাম, স্থপতি আরিফুল ইসলাম, স্থপতি রফিক আজম ও ভিস্তারার এমডি মুস্তফা খালিদ পলাশ।

সেমিনারে জানানো হয়, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর থেকে কম্পনের হার আরও বেড়েছে। কলম্বিয়া বিশ^বিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০-১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনো মুক্ত হয়নিÑ যা বিশেষজ্ঞদের মতে উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!