ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

কার্নিভাল অব চেঞ্জ ২০২৫

তারুণ্যের মিলনমেলায় উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার প্রদর্শন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:২৩ এএম

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা, তাদের উদ্ভাবন আর নানা উদ্যোগের প্রদর্শনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে ‘কার্নিভাল অব চেঞ্জ ২০২৫’। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের যাত্রাকে এগিয়ে নিতে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৫০ জনেরও বেশি তরুণ-তরুণী অংশ নেন।

গতকাল শনিবার সাভারে ব্র্যাক সিডিএমএ প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী এই আয়োজন। প্রথমদিন ছিল তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের সামাজিক উদ্যোগ ও উদ্ভাবন প্রদর্শনের পাশাপাশি ছিল মতবিনিময়, আলোচনা ও কর্মশালাসহ নানা আয়োজন। ওই দিন চূড়ান্তপর্বে মনোনীত ১২টি প্রকল্পের মধ্য থেকে সৃজনশীলতা, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা ও স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি অসাধারণ উদ্যোগকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। তাদের এই প্রকল্প ও উদ্যোগকে আরও টেকসইভাবে গড়ে তুলে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে তারা ব্র্যাকের ‘সোশ্যাল আস্ত্রেপ্রেনার্স ফেলোশিপ’ প্রধান করা হয়। এবার এই পুরস্কার পেয়েছেন স্টোরিজ অব ইনক্লুশন, জলশিখা ও গুড্ডু টয়জ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং বিশ^সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, ‘মানুষের আনন্দকে কখনো বাধা দিতে হয় না। কিন্তু আমাদের অভিভাবকরা বাধা দেন। আমার ইচ্ছে সাহিত্য পড়তে, অভিভাবকরা পড়তে বলেন অ্যাকাউন্টিং।’

তিনি আরও বলেন, ‘জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে হাল ছাড়া যাবে না। যার যা অন্তরে চায়, যে জিনিস রক্তের মধ্যে নিয়ে জন্মেছে তা করতে হবে। সেটা যদি ঠিকমতো করতে পারেন তা হলে সেখানে শ্রেষ্ঠ হবে। পাগল না হলে পৃথিবীতে কিছু করা যায় না।’

পুরস্কারের আশায় কিছু করলে জীবনে জয়ী হওয়া যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আত্মা কি চায় তা জিজ্ঞেস করতে হবে। একজন মানুষের মধ্যে অনেক মানুষ থাকে। সেই মানুষের মধ্যে যে মানুষটা বেশি শক্তি রাখে তাকে অনুসরণ করতে হবে। মানুষ যা মন দিয়ে করবে সেখানে সাকসেস হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ ও ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইউথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম হাসান।

এর আগে দিনের শুরুতে অনুপ্রেরণাদায়ক সেশন ‘ইউথ ভয়েসেস একোয়িং দ্য এসেন্স অব চেঞ্জমেকিং’ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ‘দ্য ওয়ে টু সাকসেস’ বা ‘সাফল্যের পথ’ শীর্ষক বক্তৃতা করেন ব্র্যাকের হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের পরিচালক সাফি রহমান খান।

কার্নিভালের শেষ দিন আজ রোববার থাকবে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীদের আত্ম-উন্নয়ন, ক্যারিয়ার নির্দেশনা ও দেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময়, আলোচনা, সংলাপ এবং কর্মশালাসহ নানা আয়োজন।