স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ বন্ধসহ আট দফা দাবি মানা না হলে সারা দেশের নার্সদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব)। গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিলকিছ জাহান চৌধুরী এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে আট দফা দাবিও উপস্থাপন করেন।
আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছেÑ ১. স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে ভিন্ন কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ বন্ধ করা এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন; ২. প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ ও ক্যারিয়ার পাথ দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন; ৩. নবম থেকে চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত নার্সদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি; ৪. নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদ দশম থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা; ৫. ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদ স্নাতক (পাস) ডিগ্রির সমমান ঘোষণা এবং সব গ্র্যাজুয়েট নার্সের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালু করা; ৬. বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং মিডওয়াইফারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়োগবিধি ও বেতনকাঠামো প্রণয়ন; ৭. নিবন্ধনহীন ও অপ্রশিক্ষিত নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা; ৮. নার্স-মিডওয়াইফদের ঝুঁকি ভাতা, বর্তমান নার্সিং ইউনিফর্ম পরিবর্তন এবং শয্যা-রোগী-চিকিৎসক অনুপাত অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ।
সংবাদ সম্মেলনে বিলকিছ জাহান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়সংগত দাবি জানিয়ে আসছি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই আজ সংবাদ সম্মেলনে আসতে হলো। দাবি না মানলে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের নার্সদের নিয়ে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭৭ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশে স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন সেবা পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠা হয়, যা বর্তমানে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর হিসেবে বিদ্যমান। কিন্তু এখন তা বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের জনস্বাস্থ্যবিরোধী উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন করতে হবে।’
তিনি জানান, এসব দাবি ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য অত্যাবশ্যক। সংবাদ সম্মেলনে ন্যাবের সহসভাপতি ফিরোজা খাতুন, সহসভাপতি জেসমিন আক্তার, মহাসচিব আকরাম আলী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেরিনা খাতুন, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মিশর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সালাহউদ্দিন, আলম হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন