বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


মাহমুদ মানজুর

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ০১:২৬ এএম

সাংস্কৃতিক সংকোচনে বাংলাদেশ

মাহমুদ মানজুর

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ০১:২৬ এএম

সাংস্কৃতিক সংকোচনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই সংস্কৃতি ছিল গণমানুষের প্রতিরোধ ও আত্মপরিচয়ের প্রধান হাতিয়ার। ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ এই দুই ঐতিহাসিক বাঁকে যে ধারার জন্ম হয়েছিল, সেটি মূলত এক মুক্তচেতা, বৈচিত্র্যমুখী, অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক যাত্রাপথ। কিন্তু প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সেই ধারার ওপর চাপ বাড়ে কখনো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে, কখনো অদৃশ্য গোষ্ঠীর হুমকিতে। চব্বিশের আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও কি সেই ইতিহাসই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? বাংলাদেশ কি আরেক দফা সাংস্কৃতিক সংকোচনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে?

প্রশ্নগুলো ওঠার অনেকগুলো কারণ জন্ম নিয়েছে জুলাই-বিপ্লব পরবর্তী সময়ে। মোটাদাগে শুরুটা হয়েছিল ২৪ সালের নভেম্বরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বিরোধের মুখে ‘নিত্যপুরাণ’ প্রদর্শনী মাঝপথে বন্ধ এবং সেটিরপ্রতিবাদ করলে মামুনুর রশীদের মতো নাট্যজনের গায়ে ঢিম ছোড়া হয়! আর শেষ ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ সালের নভেম্বরে। যেখানে দেখা গেছে, গান পরিবেশনকালে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে করা মামলায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের।

এই দুই নভেম্বরের মাঝে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্য দিয়ে এটুকু স্পষ্ট; দেশের স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক চর্চা খানিকটা সংকোচনের মুখে পতিত। অথচ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার ছিল ‘কথা ক্য’ কিংবা ‘আওয়াজ উডা’র মতো অসংখ্য গান। 

চলতি সপ্তাহে বড় মাপের একটি কনসার্টের ঠিক আগের রাতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যেখানে প্রথমবার একমঞ্চে পারফর্ম করার কথা ছিল দেশের জেমস আর পাকিস্তানের আলী আজমতের মতো তারকারা। মূলত সেই ঘটনা থেকে লোকমুখে জানা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে দেশে আর কোনো সাংস্কৃতিক জমায়েতের অনুমোদন দিচ্ছে না প্রশাসন।

অথচ, শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় ধরা হয় শীতকালকে। এভাবেও বলা যায়, প্রায় সারাবছর গান থেকে যাত্রাপালার সঙ্গে জড়িতরা এই সময়টার অপেক্ষায় থাকেন। এমনকি ওয়াজ-মাহফিলেরও এটাই মোখ্যম সময়। কিন্তু শীতের শুরুতেই খবর আসছে একের পর এক অনুষ্ঠান কিংবা বড় জমায়েত বাতিলের খবর। এমনকি কাল কনসার্ট, টিকিট বিক্রি শেষ, সাউন্ড-লাইট-ভেন্যু প্রস্তুত, বিদেশ থেকেও শিল্পী এসে হাজির। অথচ মধ্যরাতে প্রশাসন বলছে, কনসার্ট করা যাবে না! কারণ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে!

এর বাইরে যাত্রাশিল্প আর বাউল গান প্রায় পুরোটাই এখন পড়ে আছে ‘মব সংস্কৃতি’র ঘেরাটোপে। এরমধ্যে খোদ শাকিব খানের সিনেমাই বন্ধ করে দিয়েছিল ‘তৌহিদী জনতা’! বাধা এসেছে নাটকের শুটিংয়ে, হয়রানি করা হয়েছে পর্যটকদের, বন্ধ হয়েছিল বাউল মেলা। আর ২৪ অভ্যুত্থানের পর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে যা যা ঘটেছে, সেটি নতুন ইতিহাসেরই প্রতিদ্ধনির মতো। যে সংস্কৃতি আসলে সফল বিপ্লব কিংবা স্বাধীনতা শেষে প্রত্যাশিত নয়। যদিও ইতিহাস তথা বিপ্লবীরা বার বার সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটনায়! 

এদিকে সেসব ছাপিয়ে অনেকেই ভেবেছিল বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে এই শীতে ফের দেশজুড়ে মেতে উঠবে সাংস্কৃতিক নানান আয়োজনে। যার নেতৃত্বে থাকবে গানের কনসার্ট। কিন্তু এ বেলাতেও নানামাত্রিক বাধা অব্যাহত। অনুমান করা যাচ্ছে, এই শীতে একটি ওপেন এয়ার কনসার্টও হচ্ছে না। এমনকি ইনডোর কনসার্টের বিষয়েও প্রশাসনের রয়েছে ঘোর আপত্তি।

১৯৭১-এর পর তৎকালীন রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রে ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র’ এ চার মূলনীতির ওপর সংস্কৃতির যে বিস্তার ঘটে, সেটি দীর্ঘ গবেষণায় দেখা যায়। সমাজবিজ্ঞানীরা তাদের বিবিধ গবেষণায় দেখিয়েছেন, স্বাধীনতার পর নাটক, চলচ্চিত্র, লোকসংগীত, কাব্য, চিত্রকলাÑ সব ক্ষেত্রেই ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ছিল দেশ নির্মাণের মূল এজেন্ডা। ১৯৭২–৭৫-এর মধ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন’ (বিএফডিসি)-এর আধুনিকায়ন, ‘পিপলস থিয়েটার’ আন্দোলন, স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রকাশনা বুমÑ এসব ঘটনা সেই উন্মুক্ত পরিবেশের সাক্ষ্য বহন করে।

তবে ১৯৭৫-এর পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলে সাংস্কৃতিক যাত্রাপথে প্রথম বড় বাঁক তৈরি হয়। বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থে উল্লেখ আছে, কীভাবে ১৯৭৫-এর পর রাষ্ট্রীয় বয়ান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র ও নাটকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প কমে যায়, তার জায়গায় আসে বাণিজ্যিক রোমান্স–অ্যাকশন ফর্মুলা। ৮০-এর দশকে সামরিক শাসনের ফলে ‘সংস্কৃতির পরিধি সংকুচিত করে’Ñ যা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষকদের বিশ্লেষণ রয়েছে নানাবিধ গ্রন্থে।

১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আবার সাংস্কৃতিক উত্থান দেখে। নব্বইয়ের দশককে গবেষকরা বলেন ‘মিডিয়া লিবারালাইজেশনের যুগ’। একটি গবেষণায় (জার্নাল অব সাউথ এশিয়ান কালচারাল স্টাডিজ, ২০১২) দেখায়, ১৯৯০-২০০১ সময়কালে বেসরকারি টেলিভিশন, ব্যান্ড মিউজিক, স্বাধীন থিয়েটার গ্রুপ, ছোট-কাগজ আন্দোলনÑ সব মিলিয়ে সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে গণপরিসরে। এ সময় চলচ্চিত্রে ‘বাকশক্তি’ বাড়ে তার উদাহরণ হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রধারা, বা ‘মাটির ময়না’র মতো আন্তর্জাতিক মাপের সিনেমাকে উল্লেখ করেন গবেষক ড. শফিউল আলম (ফিল্ম কোয়ার্টারলি, ২০০৮)।

কিন্তু এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথ আবার নড়বড়ে হয়ে ওঠে ২০১৩-২০১৬ সময়কালে, যখন ধর্মীয় উগ্রবাদ সাংস্কৃতিক পরিসরকে সরাসরি আক্রমণ করতে শুরু করে। ব্লগার হত্যা থেকে শুরু করে থিয়েটার দল, কনসার্ট, বইমেলাসহ বহু জায়গায় শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০১৬ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট ২০১৭ দুটিতেই এই চাপের বিস্তারিত বিবরণ আছে। বাংলাদেশে প্রকাশ্য শিল্প-প্রদর্শন, নারীবাদী শিল্পচর্চা এবং প্রগতিশীল বই প্রকাশনা তখন নতুনভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

এই পটভূমিতে ২০২৪-এর আগস্ট-পরবর্তী অস্থিরতা নতুন করে প্রশ্ন তোলে: সংস্কৃতির স্বাভাবিক পথ কি আবারও রুদ্ধ হচ্ছে? নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্রকার, সংগীতশিল্পী থেকে প্রকাশনা জগত সবচেয়ে সাধারণ অভিযোগ দুটি ১. অনিশ্চয়তা ও ভয়, ২. অদৃশ্য চাপ বা অনানুষ্ঠানিক সেন্সরশিপের আশঙ্কা।

যদিও অভ্যুত্থানের পর সেন্সরবোর্ড বাদ দিয়ে গঠিত হয়েছে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। চলচ্চিত্রের মানুষরা অন্তত একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ভাবল, আর বুঝি সেন্সরের কাঁচির টেবিলে পড়তে হবে না তাদের! বন্দি হবে না সন্তানতুল্য সিনেমা। যে বাক্সে আজও বন্দি রয়েছে খোদ সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’। আরও হতাশার তথ্য, বিপ্লব শেষে গড়ে ওঠা এই সার্টিফিকেশন বোর্ডই সেই সিনেমাটি আটকে রেখেছে পূর্ব নির্ধারিত নিষিদ্ধ তালিকায়। এমনকি সেই নিষিদ্ধ নজির সৃষ্টি হলো আরও একবার। অপূর্ণ রুবেলের চিত্রনাট্যে ‘কাঠগোলাপ’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন সাজ্জাদ খান। সিনেমাটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হলেও, সম্প্রতি বাংলাদেশে-এর প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা হয়েছে! অথচ সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের পর বলা হয়েছিল, আর কোনো সিনেমা যেন নিষিদ্ধ করতে না হয়, সেজন্যই এটি গঠিত হলো। যেখান থেকে সিনেমার মান ধরে গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রদর্শনের জন্য সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। কিন্তু বোর্ড গঠনের এক বছর পরেও ‘যেই লাউ সেই কদু’!

এদিকে একাধিক সাক্ষাৎকারে কিছু থিয়েটারকর্মী বলেছেনÑ নতুন প্রযোজনার শো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, অথবা তাদের কাজের বিষয়বস্তুতে ‘নিরপেক্ষ থাকার পরামর্শ’ দেওয়া হয়েছে শিল্পকলা তথা মন্ত্রণালয় থেকে। তাই নয়, দলগুলো তাদের চাহিদামাফিক হল পেতেও বেগ পাচ্ছে।

আসন্ন গ্রন্থমেলার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বই প্রকাশকরা জানিয়েছেনÑ ধর্মীয় বা রাজনৈতিক রেফারেন্স আছে এমন পা-ুলিপি এখন প্রকাশকরা নিজেরাই রিভিউ করতে ভয় পাচ্ছেন। রিভিউ করার মতো লোকও খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। একই সঙ্গে নির্বাচন কেন্দ্র করে অমর একুশে গ্রন্থমেলা কবে হবে, কিংবা আদৌ হবে কি না, সেই বিষয়ে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। যেটি নিয়ে প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রকাশক, লেখক, প্রেস, বাইন্ডাররা প্রচ- অসহায় ও অন্ধকার সময় পার করছে।

এদিকে স্বাধীন চলচ্চিত্র ও নাটক প্রযোজকরা বলছেনÑ তহবিল অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে শুটিং শিডিউল বারবার বাতিল হচ্ছে। বাধা আসছে প্রদর্শনেও। ফলে বন্ধ হচ্ছে বিনিয়োগ প্রবাহ।

এই অভিজ্ঞতাগুলো আলাদা ঘটনা নয়Ñ সামরিক বা আধা-সামরিক শাসন-পরবর্তী সমাজে এটি সাধারণ এক প্যাটার্ন। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এটি স্পষ্ট। যদিও দেশে সামরিক বা আধা-সামরিক শাসন চলছে না। তবুও কেন সংস্কৃতি প্রবাহে এমন হাল হলো!

ফ্রিডম হাউস সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা সূচক (২০২৩)-এর দেখানো হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাংস্কৃতিক প্রকাশের স্বাধীনতা সরাসরি কমে যায়। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, শ্রীলঙ্কা, নেপাল যে দেশগুলোতে সাম্প্রতিক দশকে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর আইডিওলজিকাল চাপ বৃদ্ধি পেয়েছেÑ সেখানে চলচ্চিত্র, থিয়েটার, মিডিয়া সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস-এর গবেষক ড. মারিয়া ওব্রাডোভিচ তার প্রবন্ধে অভ্যুত্থান-পরবর্তী শাসনব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক দমন (এলএসই পর্যালোচনা, ২০২১)-এর দেখিয়েছেনÑ অস্থিরতার পর রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতিটি অংশ নিজের বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য সাংস্কৃতিক পরিসরকে ‘শান্ত ও নীরব’ রাখতে চায়।

বাংলাদেশ কি একই পর্যায়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে দুই- তিনটি বিষয়ের ওপর। যেমন রাষ্ট্রের বয়ান কতটা কঠোর হয়, ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর চাপ কতটা বৃদ্ধি পায় এবং নাগরিক সমাজ কতটা সক্রিয় থাকে।

তবে ইতিহাস বলে সংস্কৃতি কখনো দীর্ঘসময় চুপ থাকে না। ষাটের দশকের দমনপীড়ন, আশির দশকের সামরিক শাসন, ২০১৫-এর উগ্রবাদী হুমকি, ২০২৪-এর দমনপীড়নÑ প্রতিবারই শিল্পীরা প্রতিরোধের পথ খুঁজে নিয়েছে ও দেখিয়েছে। তাদের সৃষ্টিই রাজনৈতিক নান্দনিকতাকে পুনর্গঠন করেছে বারবার। আবার তারাই নিগৃহীত হয়েছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মারপ্যাঁচে পড়ে।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সময়টিও সেই সীমানায় দাঁড়িয়ে। অস্থিরতার শেকড় যতই গভীর হোক, বাংলাদেশে সংস্কৃতি সবসময়ই প্রতিরোধ, পুনর্জন্ম ও পুনর্গঠনের ভাষা। প্রশ্ন শুধু এবার কি শিল্পীরা আবারও সেই পথ খুঁজে নিতে পারবে? নাকি রাষ্ট্রীয়-সামাজিক চাপের নতুন জটিলতা সেই সৃজনশীলতাকে থমকে দেবে?

যে জাতি ভাষার জন্য লড়াই করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে দেশ জন্ম নিয়েছে, সেই দেশের শিল্প-সাহিত্য কতদিনই বা নীরব থাকতে পারে? এই প্রশ্নটিও আগের প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে দিতে সাহায্য করে।

কারণ, ইতিহাসে প্রতিবার উত্তর এসেছে শিল্প ও শিল্পীর পক্ষেই। দরকার শুধু প্রশ্নটা জারি রাখা।

মাহমুদ মানজুর
গীতিকবি, সাংবাদিক ও চিন্তক

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!