ঢাকা শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

আমার কাছে ভিউ গুরুত্বপূর্ণ নয়

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৫:৫৭ এএম

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের মন জয় করে চলেছেন। অভিনয়ে তার ধারাবাহিকতা ও নানা চরিত্রের ভিন্নমাত্রা আলাদা স্থান এনে দিয়েছে। সাম্প্রতিক ব্যাচেলর পয়েন্টে আবারও যুক্ত হওয়া, নতুন গল্পে অভিনয় এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। কথায় কথায় উঠে এসেছে তার কাজের প্রক্রিয়া, চরিত্র নির্বাচনের কৌশল, দর্শকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আগাম পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিবুল ইসলাম আফ্রিদি-

 ‘ফার্স্ট লাভ’ নিয়ে কতটা আশাবাদী?

দর্শক এমন একটি চরিত্রে দেখতে পাবে যে, প্রেমে খুব একটা বিশ্বাসী না। সে অন্যরকম প্রেমে বিশ্বাসী। এ রকম চরিত্র তেমন একটা করি না, আমার সঙ্গে যায়ও না। অনেকদিন পর এ রকম একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। শুধু চরিত্র নয়, গল্পটি ম্যাজিকাল। কাজটি দেখে দর্শকরা উপভোগ করবে। ট্রেইলার থেকে যে পরিমাণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছি, এটা কল্পনার বাইরে ছিল।

এখন ওটিটিতে কাজের সুযোগ অনেক। নিয়মিত পরিকল্পনা আছে?

আমি প্ল্যাটফর্ম কেন্দ্রিক হতে চাই না। আমি গল্প কেন্দ্রিক শিল্পী হতে চাই। প্ল্যাটফর্মের জায়গা থেকে যদি বলি, আমার জীবনে যখন সঠিকভাবে ওটিটির হিসাব শুরু হবে, তখন বিষয়টি বলতে পারব। ওটিটিতে ওভাবে কাজ করা হয়নি। আমার জীবনে একটাই ওটিটি কাজ আছে সেটা ‘চক্র’। যদিও এটি টিভি নাটক ছিল, প্ল্যাটফর্ম ঠিক করেছিল ওটিটিতে মুক্তি দেবে।

ব্যাচেলর পয়েন্টে যুক্ত হওয়ার পর কেমন দর্শক সাড়া পাচ্ছেন?

ব্যাচেলর পয়েন্টে যুক্ত হওয়ার পুরোনো দর্শক নতুন করে ফিরে পেলাম। দর্শক এক নতুন নেহালকে দেখতে পেয়েছে। আমার দৃশ্য প্রকাশের পর থেকে প্রচুর পরিমাণ ট্যাগ করে ফেসবুকে পোস্ট পেয়েছি। আমি বুঝতেও পারিনি দর্শক এত বছর পর আবারও তাদের মনে জায়গা দেবে।

নেহাল কি আবারও আমেরিকা চলে যাবে?

ব্যাচেলর পয়েন্ট এমন একটা কাজ, এটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়। মাঝে মাঝে হয় না, ডিসেম্বর চলে আসলো তারপরও শীত আসছে না, আবার গত বছর ডিসেম্বরে অনেক ঠান্ডা ছিল। এটা সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। কোন সময় শিল্পীরা সময় দিতে পারছে নাকি পারছে না, ওটার ওপর নির্ভরশীল। কোনোকিছু আগেই ঠিক করা থাকে না। এমন কিছু ঠিক করা নেই যে আমি চলে যাচ্ছি।

কোন বিষয় দেখে চরিত্র নির্বাচন করেন?

গল্প, চরিত্রের গভীরতা; নির্মাতা সবকিছু দেখেই নির্বাচন করি। তা ছাড়া প্রযোজক, চ্যানেল; প্রকাশের সময়, এডিটর, মিউজিক, কালার গ্রেডিংসহ সব কিছু দেখে নির্বাচন করি কোন কাজটি করব।

পট পরিবর্তন কাজে প্রভাব ফেলেছে?

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটা প্রভাব পড়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের প্রায় রোজা পর্যন্ত দেশে ঠিকঠাকভাবে কাজ হয়নি। খুব অল্প কাজ হয়েছে। আগস্টের আগে বাজেট অনেক ভালো অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে পরে বাজেট সমস্যা হয়েছে। এখনো এটা সমাধান হয়নি। আমি বা আমার মতো যারা কাজ বেছে করছে ওদের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা হয়েছে।

শিল্পীদের রাজনীতি কীভাবে দেখেন?

এটা যার যার বিষয়। ধর্ম যে রকম যার যার বিষয়, রাজনীতিও তার তার বিষয়। ব্যক্তিগত মতামতে হস্তক্ষেপ করা আমার কোনো অধিকার নেই, বলাও উচিত না। আমার কোনোটা নিয়েই মাথাব্যথা নেই।

আপনার দৃষ্টিতে নাটকে সবচেয়ে বড় সংকট কী?

বাজেট সংকট, শুটিংয়ের সময় কম, গল্প দুর্বল এসব কোনোটাই আমার সংকট না। যখন এই সংকটের মুখোমুখি হয়েছি, সেখান থেকে বের হয়ে আসছি। আমি আমার মতো করে ওঠার চেষ্টা করেছি এবং এখনো করছি। আমার মনে হয় কিছুটা করে ফেলেছি। সামনে কি হবে সেটা জানি না, সংকট যখন আসে; মার্কেটে আসুক বা কারো জীবনে আসুক, তার দায়িত্ব হবে সেখান থেকে উঠে আসা। আমি একা উঠে এসেছি এটা তো শুধু আমার একার না, আমি যখন শুটিং করি তখন আমার শুটিংয়ের ৫০ জন টিমমেট থাকে, সবাই তখন আমার ক্ষেত্রে বলে না, এটা যাদের ক্ষেত্রে বলে তাদের একটু সচেতন হওয়া উচিত কাজের কোয়ালিটি নিয়ে। গুণমান সব সময়ই প্রথমে থাকে।

ইউটিউব নাটকের ভিউয়ের চাপ কি অভিনয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে?

আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি যে, এখনো টিভি নাটকে অভিনয় করতে পারছি, যা এখন আর নেই। ইউটিউবের ভিউ কখনোই আমার জন্য মাথার ব্যথার কারণ হয়নি। তাই আমার অনুশীলন বা চর্চা সেই ভিউয়ের সঙ্গে মেলানো নয়। আজ যারা ভিউয়ের দিক দিয়ে গল্প তৈরি করছে, তাদের সঙ্গে নিজেকে মানাতে পারি না। আমি যেভাবে শিখেছি, যেভাবে আমার শিল্পীসত্তা বিকশিত হয়েছে; সেই ধরনের কাজেই মন দিই। সেই কাজগুলো ভিউয়ের ভিত্তিতে হোক বা না হোক, আমার কাছে তা কখনোই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

প্রযোজনায় আসার আগ্রহ আছে?

সহকর্মীদের মধ্যে অনেকেই প্রযোজনায় নাম লেখিয়েছেন। আমারও আগ্রহ আছে। মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে সব রকম সেক্টরে একসময় জড়িত অবশ্যই হব, হতে চাই। এখন একটা একটা করে পার করে নেই। এখনো অভিনয়টাকে ঠিকঠাক মতো আয়ত্তে আনতে পারিনি যেভাবে আমি চাই। প্রতিনিয়ত সেটা আমি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছি, যেন আমি আরও ভালো অভিনেতা হয়ে দর্শকদের সামনে আসতে পারি। আমার কাছে মনে হবে যখন ওকে, কিছুটা নিরাপদ জোনে আছি, তখন কয়েকদিন অন্য দিকে মনোযোগ দেব। সেই সময় আমি প্রযোজনা, পরিচালনা বা প্রোডাকশন হাউস, যে ক্ষেত্রেই যেতে চাই না কেন, সেটাকে ঠিকঠাকভাবে এগিয়ে নেব। এখন আমার পুরো মনোযোগ অভিনয়ে।

এমন কোনো চরিত্র আছে যা এখনো করার সুযোগ হয়নি

হ্যাঁ এ রকম চরিত্র আছে। শয়তানের চরিত্রে কাজ করতে চাই। শয়তান বলতে স্বয়ং শয়তান। যেমন লুসিফার বা ইভিল কোনো চরিত্র। আমাদের নাটকে এমন চরিত্র করার সুযোগ হয় না, ওটিটির ক্ষেত্রে হতে পারে। আমরা ভূতের সিনেমা দেখি যেখানে দুর্দান্ত চরিত্র থাকে, যেখানে নৃশংস যা দেখলেই ভয় লাগে। যেমন কথার কথা নিশো ভাইয়ের রাফসান হোক যেরকম, ওইরকম কোনো নেগেটিভ চরিত্র যেটা আসলে অভিনয় করার জায়গাটা অন্যভাবে পাব। কারণ গত ১০-১২ বছর শুধু পজিটিভ চরিত্রই করে গিয়েছি। অভিনয় শুধু পজিটিভ হলে হবে না আমার কাছে মনে হয়, একটু ভিন্নতা দরকার।

সিনেমা নিয়ে কি ভাবছেন?

অনেক বড় সংকটের সময় ভালো নাটক করতে পারতেছি এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা আশীর্বাদ। এই আশীর্বাদ আপাতত ফেলে সিনেমায় যেতে চাই না। সত্যি বলতে, আমার কাছে এই মুহূর্তে এমন না যে অনেক ভালো, বড় পরিচালক; প্রযোজকদের সিনেমার প্রস্তাব পড়ে আছে। আগে প্রস্তাব আসতে হবে। তারপর গল্প পছন্দ হলে সিনেমা নিয়ে ভাবব। মোটকথা এখন সিনেমা নিয়ে ভাবনা নেই। অনেক সিনেমা হচ্ছে, অনেক নায়করা কাজ করছে, আমি নিজেকে সিনেমায় আরও পরে দেখতে চাই।