কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার দুধখাওয়া মৌজার মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাজু মন্ডল লাল কেঁচো ব্যবহার করে জৈবসার উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আগ্রহ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি বর্তমানে নিজ উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন করে নিজের কৃষি জমিতে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়ভাবে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রায় চার বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে লাল কেঁচো দিয়ে জৈবসার উৎপাদন শুরু করেন সাজু মন্ডল। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তিনি মানসম্মত জৈবসার উৎপাদনে সফল হয়েছেন।
সাজু মন্ডল জানান, লাল কেঁচোর মাধ্যমে উৎপাদিত জৈবসার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের উৎপাদন ভালো রাখতে সহায়তা করে। বর্তমানে তিনি উৎপাদিত সার নিজের জমিতে ব্যবহার করছেন এবং এর ইতিবাচক ফলও পাচ্ছেন। চলতি বছর তিনি প্রায় ১২ মণ জৈবসার উৎপাদনের আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে জৈবসার উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে চাই। কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন করে এলাকার কৃষকদের কাছে সরবরাহ করতে পারব। এতে পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।’
স্থানীয় কৃষকরাও সাজু মন্ডলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা পেলে এ ধরনের উদ্যোগ কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, ‘রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এই সার ফসলি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাজু মন্ডলের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।’

