শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৫:৩৩ এএম

মধ্যযুগীয় কায়দায় নারীসহ দুজনকে নির্যাতন

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৫:৩৩ এএম

মধ্যযুগীয় কায়দায় নারীসহ  দুজনকে নির্যাতন

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ২ নম্বর মালিখালী ইউনিয়নের মিঠারকুল গ্রামের এক নারী (৩৫) ও পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হেলাল সিকদারসহ পাঁচজনের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। নির্যাতনকারীদের কাছে বারবার কাকুতি-মিনতি করলেও শেষ রক্ষা হয়নি ভুক্তভোগীদের।

সম্প্রতি নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই গৃহবধূ ও পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। এ সময় ভুক্তভোগীরা নির্যাতনকারীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও বন্ধ হয়নি পৈশাচিক নির্যাতন।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী নারীর ভাশুরের ছেলে টুটুল সিকদার (৩২) বাদী হয়ে হেলাল সিকদারসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে নাজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেনÑ একই গ্রামের সাহেব আলী সিকদারের ছেলে হেলাল সিকদার (৩৫), মিলন সিকদার (৩৮), দেলোয়ার ওরফে দেলাল সিকদার (৩০), মকবুল সিকদারের ছেলে নান্নু সিকদার (৩৪) এবং সালেক সিকদারের ছেলে মামুন সিকদার (২৭)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় ফোরকান মোল্লার ব্যাবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এই সুবাদে গত ৬ আগস্ট রাতে প্রয়োজনের তাগিদে ভুক্তভোগীর ঘরে যান পঞ্চাশোর্ধ্ব ফোরকান মোল্লা। তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ থাকায় তারা পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করেন এবং পরোকীয়ার আখ্যা দিয়ে বেঁধে উলঙ্গ করে বেধড়ক মারপিট করে এর ভিডিও ধারণ করেন এবং এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা না থাকায় ঘরে থাকা ২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান অভিযুক্তরা এবং হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ না করলে তাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেবেন। ওই সময়ের মধ্যে দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে আপত্তিকর ভিডিওটি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে অভিযোগকারী টুটুল সিকদার, ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে জীবনযাপন করছেন। এবং বিচার পাওয়ার আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

ভুক্তভোগী নারী মুঠোফোনে জানান, ‘তারা ষড়যন্ত্র করে আমার মান-সম্মান ক্ষুণœ করেছে। জায়গা-জমি নিয়ে ঝামেলা থাকায় আমার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি দীর্ঘ এক বছর ধরে বাড়িছাড়া। আপনারা একটু দেখেন, আমি যেন বাড়ি এসে ভালোভাবে বসবাস করতে পারি এবং ন্যায়বিচার পেতে পারি।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হেলাল সিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!