হঠাৎ করেই কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারে আড়তগুলোতে গত দুদিনে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এতে করে বিপাকে ব্যবসায়ীরা আর অস্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কায় করছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শুক্রবার পেঁয়াজের বাজার ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড় এলাকায় পেঁয়াজের আড়ত রয়েছে ১৪টির মতো। প্রতিটি দোকানই খালি। কেউ আবার দোকান বন্ধ রেখেছেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দেশি পেঁয়াজের ভরা মৌসুম শুরু হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। শেষ সময়ে পুরোনো পেঁয়াজের মজুত কমেছে। গত ২৫ নভেম্বর প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ২৬ নভেম্বর ৯০ টাকায় বিক্রি করলেও গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১০ টাকা করে দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকায়। সেই হিসাবে বস্তাপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ভৈরবের পাইকাররা বেশির ভাগ পেঁয়াজ সংগ্রহ করেন ফরিদপুর, পাবনা ও মাগুরা থেকে। কিন্তু দাম বৃদ্ধি ও মজুত না থাকায় পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় বাজারে আসছে না। সরকার এ বছর পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। এ জন্য দেশে নতুন পেঁয়াজ আসার আগপর্যন্ত দিনে দিনে দাম বাড়াচ্ছে। দাম বাড়ার ফলে পেঁয়াজেরও সংকট দেখা দিয়েছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী ফাইন ট্রেডার্স মালিক শাকিল মুন্সি বলেন, ‘আমার ঘরে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ বস্তা পেঁয়াজ থাকে, কিন্তু দাম বাড়ায় আমার আড়তে (শুক্রবার) পেঁয়াজের বস্তা রয়েছে মাত্র ৩০টি। এখন প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। সরকার ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না। এতে করে বর্তমান বাজারে পুরাতন পেঁয়াজ সংকটে রয়েছে।’
আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী মেসার্স সামিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মিলন মিয়া বলেন, কৃষকের কাছে পেঁয়াজ মজুত নেই। বড় বড় ব্যবসায়ীরাও এবার বেশি মজুত করতে পারেননি। তবে দেশের পেঁয়াজেই দেশের মানুষের চাহিদা মিটেছে। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ দেশে না এলে কৃষকেরা বেশি লাভবান হবেন। সরকার সঠিক তদারকি করলে পেঁয়াজের ফলন বাড়লে দেশে চাহিদা মিটিয়ে পিঁয়াজ বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।
এদিকে পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা ছিদ্দিক মিয়া ও ইমন মিয়া বলেন, ‘পাঁচ কেজির নিচে কিনতে গেলে দাম বেশি দিতে হচ্ছে। এ জন্য পাইকারদের কাছে থেকে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। গত বুধবার ৪৫০ টাকা পাল্লায় (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ কিনেছি। আজ (গতকাল) বাজারে এসে দেখি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। পাঁচ কেজি পেঁয়াজে ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করেই দাম বাড়িয়েছেন কি না, সেটা বলতে পারছি না। তবে ভৈরবের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তদারকি প্রয়োজন।’
খুচরা ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বলেন, ‘আমি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করি। গত মঙ্গলবার পেঁয়াজ কিনেছি ৮০ টাকায়, পরদিন ৯০ টাকা এবং আজ (গতকাল) বাজারে এসে দেখি পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা।’
এ বিষয়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ বলেন, ‘পেঁয়াজ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। হঠাৎ করে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সন্দেহের। আমি বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নিচ্ছি। সেই সঙ্গে ভৈরব প্রশাসনকে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ করব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শবনম শারমিন বলেন, ‘হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

