ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

তিন যুগেও হয়নি খালের ওপর সেতু

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০২:১৭ এএম

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদপাড়ের হাজিবাড়ী প্রান্তে একটি ছোট সেতুর অভাবে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে হাজারো কৃষক ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সুজলা-সুফলা ও মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই গ্রামটি একটি সামান্য অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে আজও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।

গ্রামের পশ্চিম পাশে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমিতে সাহেবেরচর গ্রামের মানুষ চাষাবাদ করেন। কিন্তু গ্রামের পাশে থাকা প্রাচীন একটি শাখা নদী বা খাল তাদের প্রধান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দিক থেকে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা বের হয়ে পথ পরিবর্তন করতে করতে হোসেনপুরের জিনারী ইউনিয়নের চরহাজীপুর, চরকাটিহারী হয়ে সিদলা ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের পাশ দিয়ে আবার ব্রহ্মপুত্রে মিলেছে।

বছরের পর বছর খালটি প্রায় মৃত অবস্থায় থাকলেও সাম্প্রতিক পুনঃখননের ফলে এটি এখন প্রায় সারা বছর জলমগ্ন থাকে। ফলে গ্রামের কৃষকদের মাঠে যেতে বা ফসল নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে নিত্যদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গরু-ছাগল নিয়ে মাঠে যেতে হলে কোমর পানি পেরোতে হয়, আর বর্ষায় এর কষ্ট আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা, যা বর্ষার পানি বা স্রোতে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও নতুন নয়।

গ্রামবাসীর দাবি, ব্রহ্মপুত্রপাড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা না হলে কৃষিকাজ, শিক্ষার্থী চলাচল, পণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাদের মতে, সরকারের সামান্য উদ্যোগেই একটি সেতু নির্মাণ সম্ভব, আর সেটি বাস্তবায়ন হলে তিন যুগের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে সাহেবেরচর গ্রামবাসী।

গ্রামবাসী জানায়, মাঠে যাতায়াতে এত কষ্টের কারণে জমিতে কাজ করার জন্য শ্রমিকও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও খাল পার হয়ে যাওয়ার সময় জামাকাপড় ভিজিয়ে পার হতে হয়। ফলে অনেকেই নিয়মিত ক্লাস করতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছে।

এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, আমরা ৩০-৩৫ বছর ধরে একই কষ্ট করছি। মাঠে যেতে হলে প্রতিদিনই পানি পার হতে হয়। ফসল নিয়ে ফেরার সময় সবচেয়ে বিপদে পড়তে হয়। কতবার যারা এসেছেন মাপজোক করতে, কিন্তু সেতু আর হলো না।

স্থানীয় গৃহবধূ রাশিদা খাতুন বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হওয়া খুব ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় বাচ্চারা পড়ে যায়। বৃষ্টি হলে তো সাঁকো পুরো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, তখন বের হওয়াই কষ্ট।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্বাচন এলে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে আর ওই পথে হাঁটেন না। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।