সামাজিক মাধ্যম টিকটকে পরকীয়ায় জড়িয়ে ৬ বছর বয়সি শিশু ছেলেকে রেখে সংসার ছেড়ে চলে গেছে মা। স্বামীকেও দিয়েছে তালাক। খোঁজ নেয় না অবুঝ শিশুটিরও। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মায়ের আদর-যতœ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলো শিশু মোহাম্মদ বায়েজিদ (৬)। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপট্টি গ্রামে। এমন অমানবিক ঘটনায় হতবাক ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানায়, আট বছর পূর্বে উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপট্টি গ্রামের চুন্নু মাতুব্বরের ছেলে মো. ফরিদ মাতুব্বরের (২৯) সঙ্গে একই ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদি গ্রামের কামরুল ফকিরের মেয়ে রতনা বেগমের (২৩) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এর দুই বছর পর তাদের ঘর আলো করে আসে মোহাম্মদ বায়েজিদ নামের ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান। পরে জীবিকার তাগিদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লায় চলে যান ফরিদ। সেখানে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিছানার চাদর বিক্রি করতেন ফরিদ। এরই সুযোগে টিকটকের মাধ্যমে শুভঙ্কর নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক সনাতন ধর্মের ছেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ায় রতনা।
টানা দুই বছর মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গভীর প্রেমে আসক্ত হয় রতনা। ছেলের বয়স তখন প্রায় ৬ বছর। মায়ের পরকীয়ার কথা বাবার কাছে বলে দেয় শিশু বায়েজিদ। এজন্য ফাঁকা বাসায় ছেলের ওপর নির্যাতন চালায় রতনা। ফরিদ কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে কুমিল্লা থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরকীয়া প্রেমিকের টানে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় রতনা। এর সাতদিন পর শ^শুরবাড়িতে আছে জানতে পেরে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গেলে একতরফা তালাক দিয়ে ফরিদকে বিদায় করে দেয়। এরপর থেকে নিজের গর্ভের সন্তানকেও একনজর দেখতেও আসে না পাষ- মা। গত চার মাস ধরে মায়ের আদর-যতœ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ছোট্ট বায়েজিদ।
শিশু মোহাম্মদ বায়েজিদ জানায়, আমার মা পচা। এক বেটার সঙ্গে দিন-রাত কথা বলে। তাকে কোনো আদর করে না। ওই বেটার ফোন এলেই ঘরের বাইরে চলে যেত। বাবা বাড়ি এলে এসব কথা বলছিলাম। এজন্য মা আমাকে অনেক মারছে, মুখ চেপে ধরেছে।
ভুক্তভোগী মো. ফরিদ মাতুব্বর বলেন, তাকে টিকটক চালাতে দেখলেও কখনো কিছু বলিনি। কিন্তু সে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শুভঙ্কর নামে এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে তা বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পেরে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রেমিকের টানে আমার স্ত্রী চলে গেছে। ছেলেটারও কোনো খোঁজখবর নেয় না, দেখা করে না।

