বরিশালে ২ ভুয়া সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে কীর্তনখোলা তীর জনপদে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। শহরের উত্তর অঞ্চলের বাসিন্দা হাসিব রহমান এবং সায়েম সিকদার নামের এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। গত বুধবার শহরের চৌমাথা লেকপাড়ে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রাক্কালে তাদেরকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। অবশ্য এরআগে একচোট পিটুনিও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার হাসিব রহমান এবং বেলতলার সায়েম সিকদারসহ ৫/৬ জনের একটি গ্রুপ নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছিল। বুধবার রাতে চৌমাথা লেকপাড়ে প্রেমিক যুগলের ছবি তুলে তারা অর্থ দাবি করে। এবং এনিয়ে তারা সংবাদ প্রকাশের হুমকি ধামকি দিয়ে ১১ হাজার টাকা প্রেমিক যুগলের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় যখন আরও অর্থ দাবি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে ১১ হাজার টাকা নিলেও প্রেমিক যুগল নিশ্চুপ ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় যখন আরও অর্থ দাবি করা হয় তখন তারা ক্ষুব্ধ হন এবং এনিয়ে ভুয়া ৫/৬ সাংবাদিকের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তখন স্থানীয় দোকানিসহ পথচারীরা একত্রিত হয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা নিজেদের সাংবাদিক প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে জনরোষে পড়ে। এসময় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া দিয়ে হাসিব রহমান এবং সায়েম সিকদারকে আটক করতে সক্ষম হলেও পালিয়ে গেছে বাকি ৪ সহযোগী।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই গ্রুপটিই সপ্তাহখানেক পূর্বে শহরের কলেজ এভিনিউ রোডের একটি বাসায় হানা দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। সাংবাদিক পরিচয়ে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে নগদ ১৫ হাজার টাকাসহ তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এই ভুয়া সাংবাদিকদের দুজন আটকের খবর পেয়ে কলেজ এভিনিউ রোডের দম্পতি কোতয়ালি মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই গ্রুপটির বিরুদ্ধে এছাড়াও মাদক ক্রয় বিক্রয়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। সূত্র জানিয়েছে, হাসিব রহমানসহ গ্রুপের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল এবং স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় পোর্টরোডে শ্রমিকের কাজ করতো। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে তারা বহুমুখী অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়।
২ ভুয়া সাংবাদিককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে ৫/৬ যুবক শহরের চৌমাথায় প্রেমিক যুগলের ছবি তুলে তাদের ভয়ভীতি দেখাতে ছিল। এবং একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতেও সক্ষম হয়। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে আরও টাকা চাইলে দেখা দেয় বিপত্তি। সন্দেহবশত স্থানীয়রা তাদের মধ্যেকার দুজন হাসিব রহমান এবং সায়েমকে আটক করে চ্যালেঞ্জ করেন। তখন তারা দুজন নিজেদের সাংবাদিক প্রমাণে ব্যর্থ হলে থানায় খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশের একটি টিম গিয়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে আটক করে নিয়ে আসে। এই ঘটনায় মামলাগ্রহণ পরবর্তী তাদের দুজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
কলেজ এভিনিউসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় তাদের অপরাধ সংঘটিত করার বিষয়ে শুক্রবার রাতে ওসি মিজান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম মৌখিক অভিযোগ আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ জমা করেননি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে, জানান ওসি।’

