আজ রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১২তম বিপিএল আসরের খেলোয়াড়দের নিলাম। তবে এই নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ ৭ ক্রিকেটারকে। আগেই বিপিএলের নিলামে ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে তাদের নাম বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেনÑ এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও শফিউল ইসলাম। এই ক্রিকেটারদের নিলামের তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, টুর্নামেন্টের স্বার্থেই এসব ক্রিকেটারদের তালিকার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
বিপিএলের গত আসরের পর ফিক্সিং তদন্তে তিন সদস্যের স্বাধীন কমিটি করেছিল বিসিবি। তাদের দেওয়া ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এবারের বিপিএল থেকে কিছু খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদেরও দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালকে। জানা যায়, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, বেশ কিছু ক্রিকেটারকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। তবে বিজয়-মোসাদ্দেকরা আসলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দোষী নাকি নির্দোষ, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ইফতেখার রহমান মিঠু বলেছেন, ‘আমরা তাদের অপরাধী বলছি না, আবার নির্দোষও বলছি না। যেহেতু তাদের ‘রেড ফ্ল্যাগ’ করা হয়েছে, সে কারণে তাদের রাখা হয়নি। বিপিএলের স্বার্থেই এসব ক্রিকেটারকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ অবশ্য বিজয় ও মোসাদ্দেকদের বাদ পড়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি বিসিবি।
সম্প্রতি বিসিবি জানায়, বিপিএলের গত আসরে ফিক্সিংয়ের সন্দেহে থাকা ক্রিকেটারদের নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হবে না। নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটাররাও স্বভাবিকভাবেই অঘোষিতভাবে সন্দেহের তিরে বিদ্ধ হচ্ছেন। তবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া নিজের নাম বিপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়। দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেছেন, বিপিএল ফিক্সিং তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিটি তাকে এক বছর আগে ডেকেছিল। যেসব প্রশ্ন তাকে করা হয়, সেগুলো বলেছেন বিজয়। কিন্তু এক বছর পর এসে হঠাৎ করে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ায় এখন অভিযোগের তির বিজয়ের দিকে। তবে নির্দোষ প্রমাণে সর্বোচ্চ দূর যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। বিজয় বলেন, ‘বিসিবি থেকে আমার কাছে কোনো ফোন আসেনি। আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি সকাল থেকে। কিন্তু কাউকেই পাচ্ছি না। আমি ঢাকার বাইরে আছি। ঢাকায় এসে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত বলতে পারব।’
বিপিএলের গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছেন ৩২ বছর বয়সি বিজয়। বিপিএলের নিলাম থেকে তার নাম বাদ দেওয়ায় নিজেকে অপরাধী মনে করছেন এই ক্রিকেটার। বিজয় বলেন, ‘এখন তো ব্যাপারটা দাঁড়াল আমি দোষী। কোনো অ্যাভিডেন্স ছাড়া আমার নাম প্রত্যাহার করে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার নোটিশ পর্যন্ত আমাকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আসলে অবাক করার বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদের কেন বাদ দেওয়া হলো শুধু একটা অভিযোগের ভিত্তিতে? সন্দেহের ভিত্তিতে কীভাবে তাদের বাদ দেওয়া হয় সেটাই প্রশ্ন। এ নিয়ে তাদের (বিসিবি) উত্তরটা জানার পর আমি পদক্ষেপ নিতে পারব, আসলে ঘটনাটা কী ঘটছে!’ প্রসঙ্গত, নিলামের জন্য দেশীয় ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকায় সব মিলিয়ে ১৫৮ জনের জায়গা হয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর সিলেটে শুরু হবে বিপিএলের নতুন আসর। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

