চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় প্রথমবারের মতো কৃষির আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ‘কৃষি ভলান্টিয়ার’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়।
সোমবার (৮ জুন ২০২৬) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহর পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাত্র, ব্যবসায়ী, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকসহ মোট ৩২ জন অংশগ্রহণ করেন। তারা ‘কৃষি ভলান্টিয়ার’ হিসেবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, নির্বাচিত ভলান্টিয়ারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়নভিত্তিক একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের কাছে দ্রুত কৃষি প্রযুক্তি ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, কৃষি ভলান্টিয়াররা হবেন কৃষি অফিস ও কৃষকের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন। তারা মাঠপর্যায়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরচ কমাতে সহায়তা করবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কল্লোল বড়ুয়া বলেন, ভলান্টিয়াররা খামার ব্যবস্থাপনা, গবাদিপশুর চিকিৎসা, ভ্যাকসিনেশন এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে খামারিদের সহযোগিতা করবেন।
এ ছাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ জানান, মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতি, রোগ নির্ণয় এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণেও ভলান্টিয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয় করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহআলম। সভায় ভলান্টিয়ারদের কর্মপরিকল্পনা, সাপ্তাহিক রিপোর্টিং এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে মাঠের তথ্য অফিসে পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উপস্থিত কৃষক ও ভলান্টিয়াররা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ পেলে ফসলের ক্ষতি কমবে এবং উৎপাদন ও লাভ বাড়বে। তারা সীতাকুণ্ডের কৃষিকে দেশের একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বাছাই শেষে কৃষি ভলান্টিয়ারদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন