ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

ভুয়া চিকিৎসকের খবর প্রকাশের জেরে এবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে পরিচয়দানকারী মাহামুদুল হাসানকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ মে দৈনিক কালবেলার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে, জাতীয় দৈনিক রুপালী বাংলাদেশ পত্রিকায় এবং পরবর্তীতে গত ১৮ মে ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে মাহামুদুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ প্রেক্ষাপটে গত ১২ মে ডিবিসি নিউজের বাগেরহাট প্রতিনিধি সৈকত মণ্ডল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত চলমান অবস্থায় মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে মাহামুদুল হাসান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সংবাদ সংগ্রহে অংশ না নেওয়া কয়েকজনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, জনস্বার্থে প্রকাশিত অনুসন্ধানী সংবাদের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়েরকৃত মামলাগুলোর সুষ্ঠু পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বলেন, আমি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করিনি। যারা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আমার ও আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপতথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এদিকে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে মাহামুদুল হাসান ও তার অনুসারীরা আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং মব সৃষ্টির মাধ্যমে হেনস্তা করেন। পরবর্তীতে একজন সহকর্মী আইনের আশ্রয় নেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

স্থানীয় সাংবাদিক মহলের অভিযোগ, মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।