ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

ভাগিনাকে নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না মামার, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তনয়ের

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। পাসপোর্টের কাজ শেষে হবিগঞ্জে গিয়েছিলেন ভাগিনাকে আনতে। কিন্তু ভাগিনাকে নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তনয় কুমার মজুমদারের (২০)। বাড়ি ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার ১৩ বছর বয়সি ভাগিনা সিজন চন্দ্র দাস।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরের বৈশামুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে নবীনগরগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। নিহতদের একজন তনয়।

তনয় নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের পালবাজার এলাকার সেতু মজুমদারের ছেলে। তিনি ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।


স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে যান তনয়। 

পাসপোর্টের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কাজ শেষে তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাকশাই এলাকায় যান তার ভাগিনা সিজনকে আনতে। সোমবার সকালে ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে সরাইলে বাস দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই তনয়ের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় আহত সিজন চন্দ্র দাস বলে, ‘বাসটি হঠাৎ উল্টে খাদে পড়ে যায়। এরপর কী হয়েছে ঠিক মনে নেই। কীভাবে বেঁচে বের হয়েছি, তা-ও বলতে পারব না।’

তনয়ের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকেলে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন এলাকার শত শত মানুষ।

সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা সেতু মজুমদার। পরিবারের সদস্যরা জানান, তনয়ের মরদেহ ইব্রাহিমপুর মধ্যপাড়া মহাশ্মশানে দাহ করা হবে।