ঝিনাইদহের শৈলকূপায় এক কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার কবিরপুরে অবস্থিত শৈলকূপা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি বেবী নাজনীন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জেমি লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি শৈলকূপা সিটি কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, কলেজে যাতায়াতের পথে একই এলাকার নাগিরাট গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ মুন্সি (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তার বাবা আব্দুল কুদ্দুস মিয়া গত ২৩ মে অভিযুক্তের বাবা বিএনপি নেতা আমিরুল মুন্সির কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগের প্রতিকার না হয়ে উল্টো তার বাবাকে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ৩০ মে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমিরুল মুন্সি ও তার ছেলে হাফিজ মুন্সিসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
এ ছাড়া ঘটনার পর পুলিশি সহযোগিতায় শিক্ষার্থীর বাবার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণচেষ্টার পাল্টা অভিযোগ এনে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে ঘটনাসংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই কোনো পক্ষের প্রভাবমুক্ত থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী পরিবার শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের নাগিরাট গ্রামের বাসিন্দা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন