ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

‎আক্কেলপুরে এক দিনে তিন লাশ উদ্ধার

‎আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

‎জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একই দিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে দুই নারী ও এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের দাবি, এক নারী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং এক নারী ও এক পুরুষ গ্যাস বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

‎নিহত ব্যক্তিরা হলেন আক্কেলপুর পৌর এলাকার খামার কেশবপুর গ্রামের উত্তম চৌধুরীর স্ত্রী শ্রীমতি সাবিত্রী চৌধুরী (২৫), উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী বড় মসজিদ এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী বুলি বেওয়া (৭৬) এবং রায়কালী ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের কমল চন্দ্র বর্মনের ছেলে শিপন চন্দ্র বর্মন (২৯)। পারিবারিক কলহের জেরে তারা তিনজন আত্মহত্যা করেছন বলে পুলিশ ধারণা করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৃথক তিনটি ঘটনায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে নিহতদের মধ্যে সাবিত্রী চৌধুরীর লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাহ করতে তার স্বজন ও গ্রামবাসীরা বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আক্কেলপুর থানায় অপেক্ষা করেন। তবে আইনগত জটিলতার কারণে লাশ হস্তান্তর না হওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত ফিরে যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই দিনে উপজেলার তিনটি এলাকা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুগুলোর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না।

নিহত সাবিত্রী চৌধুরীর স্বামী উত্তম চৌধুরী বলেন, আমার স্ত্রী মানসিক রোগাক্রান্ত ছিলেন। তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলাম। সকাল ১১ টার পর আমার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করেছে বলে খবর পেয়েছি। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কোন অভিযোগ নেই। আমরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই থানায় লাশ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু আইনি জটিলতা থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দেওয়া হয়নি। 

কমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার ছেলে শিপন চন্দ্র বর্মণের ঋণ ছিল। এ কারণে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত ছিল সে। আজ মঙ্গলবার সকাল বাড়িতে গ্যাস বড়ি খেয়ে সে মারা গেছে। 

বুলি বেওয়ার ইউডি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, বুলি বেওয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সন্তানেরা তাকে ভরণপোষণ দিতেন না। এঘটনায় বুলি বেওয়া ভরণপোষণ দাবিতে থানায় অভিযোগও করেছিলেন। আজকে তিনি গ্যাস বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বজনেরা পুলিশকে জানিয়েছে।

‎আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, তিনটি লাশ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। স্বজনেরা আত্মহত্যার কথা বললেও মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।