ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

জনবহুল ও শিক্ষাবান্ধব এলাকা বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত বাইপাসের নতুন নকশা প্রণয়নের দাবিতে মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ‘প্রস্তাবিত বাইপাসের’ অপরিকল্পিত নকশা অনুমোদনে দুর্নীতিরোধ এবং জনবহুল, ব্যবসাসমৃদ্ধ ও শিক্ষাবান্ধব এলাকা বাদ দিয়ে বাইপাসের নতুন নকশা প্রণয়নের দাবিতে আজ সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উলিপুরের ভুক্তভোগী জনগণের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গওছল আজম মিঠু, আব্দুর রহমান, মোজাম্মেল হক, শামছুল ইসলাম, সাইফুল আখতার, হাফিজুর রহমান, সেলিম, কামাল ইদ্রিস, আলমগীর হোসেন প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, বাইপাস সড়কের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় এলাকার জনগণের মতামত নেওয়ার নিয়ম থাকলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই বিষয়টিকে উপেক্ষা করে গোপনে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। আমরা পরে জানতে পারি, বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সিন্ডিকেট তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাইপাস সড়কের ম্যাপ চূড়ান্ত করার পূর্বে সরকারি অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে বাইপাসের সম্ভাব্য ম্যাপ ধরে বিভিন্ন জায়গায় পতিত ও কৃষি জমি কিনে নিম্নমানের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে।

তাদের এসব অবৈধ স্থাপনাতে যাতায়াতের কোনো রাস্তাও নেই। তারা এমনভাবে ম্যাপ করে যাতে তাদের নির্মীয়মান যাতায়াতের রাস্তা ছাড়া এসব অবৈধ স্থাপনার ওপর দিয়ে বা পাশ দিয়ে বাইপাস রাস্তাটি আসে অথবা তাদের নতুন ক্রয়কৃত জমিগুলো রাস্তার সংযোগ পায়। নিজেদের এসব স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে তারা গুরুত্ব দেয়নি। যে কারণে দেখা যায়, সাধারণভাবে বাইপাস সড়কের সংযোগস্থল বাজার থেকে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার দুর দিয়ে হলেও এক্ষেত্রে আমিন মোড় প্রান্তটি বাজারের একদম কাছেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, আমিন মোড় প্রান্তটি মূল বাজার থেকে আধা কিলোমিটারেররও কম এবং এটি মূল বাজারেরই বর্ধিত অংশ। এ কারণে বাইপাসের আমিন মোড় প্রান্তটিই হয়তো ভবিষ্যতে যানজট ও দুর্ঘটনার জোনে পরিণত হবে। 

জনস্বার্থের পরিবর্তে যা হবে জনদুর্ভোগের কারণ। এখানে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শতাধিক দোকানপাট এবং প্রায় ৭০টিরও বেশি বাড়িঘর অবস্থিত। অথচ প্রস্তাবিত-নকশাটি সামান্য পরিবর্তন করা হলে এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে বাইপাস রাস্তাটি নির্মাণ করা যেত। কিন্তু সড়ক বিভাগের সিন্ডিকেটটি তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নকশা পরিবর্তন না করার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নেওয়ার কারণে পুনঃতদন্ত থেকে আমরা কোনো সুফল পাইনি। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই সিন্ডিকেটটির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা হলো- আব্দুর রাজ্জাক, দেলোয়ার, রনি গং। 

রামদাস ধনিরাম মৌজা ছাড়াও এই গং নারিকেল বাড়ি কাজির চক মৌজা ও হায়াৎখাঁ মৌজাতেও এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে সরকারি অর্থ লোপাটের পাঁয়তারা করছে। রাস্তার নকশা থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য ভূমি অফিসের কোনো কোনো কর্মকর্তাও জড়িত আছে। মূলতঃ তাদের কারণেই জনবহুল আমিন মোড় সংযোগস্থলটি পরিবর্তন করা হচ্ছে না।