আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম Research.com প্রকাশিত ২০২৫-২৬ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি। শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মটি তৃতীয়বারের মতো তাদের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং প্রকাশ করেছে।
রিসার্চ ডট কমের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের র্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। উল্লেখ্য, গবেষকদের এইচ-ইনডেক্স (H-index) সূচকের ভিত্তিতে এ র্যাংকিং প্রকাশ করা হয়েছে।
শেকৃবির এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম। প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শীর্ষস্থানীয় গবেষকের নেতৃত্বে মোট ৬৬০টি উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যার সম্মিলিত H-index স্কোর ১৬৫।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, আমি সেই সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে আমরা এই সাফল্য অর্জন করেছি। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে আরও ভালো অবস্থান অর্জন করতে পারব বলে আমি আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণার জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো ও জায়গা তুলনামূলকভাবে সীমিত। গবেষণার পরিসর আরও সম্প্রসারিত হলে আমরা গবেষণাক্ষেত্রে আরও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হব। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে স্থান পাওয়া যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় অর্জন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অন্যতম সূচক হলো বিশ্বমানের র্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হওয়া। অতীতে বিভিন্ন র্যাংকিং সংস্থার কাছে আমাদের তথ্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে তথ্য সংযোজিত হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও উন্নত অবস্থান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষা ও গবেষণায় এই অনন্য অর্জন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

