ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক মোতায়েন করল ভারত

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৩:৩৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করেছে ভারত। বিশ্বের একটি শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ দেশটির পারমাণবিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, শান্তিকালীন সময়ে ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র আলাদা করে সংরক্ষণ করে। এই নীতিকে ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ’ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হতো। তবে নতুন মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, সেই অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ইতোমধ্যে প্রায় ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে। এগুলো মূলত দেশটির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন বহরের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার এবং নিয়মিত সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারত সম্ভবত এখন মাঝে মাঝে তার সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড সংযুক্ত রেখে টহল পরিচালনা করছে। এর অর্থ, শান্তিকালীন অবস্থাতেও কিছু অস্ত্র সরাসরি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৯০টি, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১৮০টি।

মূল তথ্য 

মোট পারমাণবিক ওয়ারহেড: প্রায় ১৯০টি।, মোতায়েনকৃত ওয়ারহেড: আনুমানিক ১২টি।,প্রথমবার সক্রিয় মোতায়েনের মূল্যায়ন।, সাবমেরিনভিত্তিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার

শান্তিকালীন সময়েও কিছু অস্ত্র লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা

ভারত এখনও তার ‘প্রথম ব্যবহার নয়’ নীতি বজায় রেখেছে।

 অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের পারমাণবিক হামলার জবাব হিসেবেই কেবল এই অস্ত্র ব্যবহারের অঙ্গীকার বহাল রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সক্রিয় প্ল্যাটফর্মে ওয়ারহেড মোতায়েন দেশটির কৌশলগত সক্ষমতা ও প্রস্তুতির মাত্রা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন।

বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ী—বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন—পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। ফলে দেশটি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিনটি মাধ্যম থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ

আগে অস্ত্র ও সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদা করে রাখার ফলে দুর্ঘটনাজনিত উৎক্ষেপণের ঝুঁকি কম থাকত এবং সতর্কতার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে নিচু ছিল। কিন্তু নতুন এই ধারা সেই অবস্থাকে বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিয়মিত সাবমেরিন টহল ব্যবস্থা সামগ্রিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বে মোট নয়টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। এদের হাতে মোট প্রায় ১২ হাজার ১৮৭টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৭৪৫টি সামরিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকীকরণ ও মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষ করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির বিস্তার এবং পারমাণবিক ও প্রচলিত সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে বাড়তে থাকা সমন্বয় ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

সব মিলিয়ে, ভারতের এই সীমিত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ মোতায়েন দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলের নতুন ধাপ নির্দেশ করছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।