আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে বাধ্যতামূলক হিজাব নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে তালেবান কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হতাহত বা গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
হেরাত পুলিশের মুখপাত্র সাইদ মাসুদ হোসাইনি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাখতার নিউজ এজেন্সিকে জানান, জিবরাইল এলাকায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘ইসলামিক হিজাব’-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল।
অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সদাচার প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধ’ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জোরপূর্বক নারীদের আটক করতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, যেসব নারী ইতোমধ্যেই শরীর ও মুখ ঢেকে চলছিলেন, তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র নিরাপত্তা সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছেন।
কিছু ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং আতঙ্কিত মানুষকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএম)।
সংস্থাটি তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন নাগরিকদের চলাফেরার স্বাধীনতা ও আইনের চোখে সমতা নিশ্চিত করা হয়।

