ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

পাবনার ব্যতিক্রমী সবজি খিচুড়ি উৎসবের একযুগ পূর্তি

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
রান্না করা হচ্ছে খিচুড়ি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পাবনার বেড়া উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমী ‘সবজি খিচুড়ি উৎসব’ এবার এক যুগ পূর্ণ করল। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান, তবে এটি এক বিশেষ প্রীতিভোজ। এ বছর ১২০ মণ বিভিন্ন ধরনের সবজি, ৬ মণ চাল এবং ৩ মণ ডাল দিয়ে রান্না করা হয় সবজি খিচুড়ি।

উৎসবে বেড়া পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া, দাসপাড়া, কর্মকারপাড়া, শেখপাড়া, শাহপাড়া ও হাতিগাড়া মহল্লার ৬ থেকে ৭ হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। খাওয়া-দাওয়ার সময়কাল রাত ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলে।

‘দক্ষিণপাড়া যুবসমাজ’ এর উদ্যোগে গত ১২ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে এই খিচুড়ি উৎসব। শীতের কোনো এক দিনে মহল্লার মুরুব্বিরা ও স্থানীয়রা মিলিত হয়ে উৎসবের দিন বেছে নেন। এবারের উৎসব ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৫ সালে দক্ষিণপাড়া মহল্লার ১০ থেকে ১২ জন যুবক প্রথমবার খিচুড়ি উৎসবের আয়োজন করেন। ওই বছর এক হান্ডি সবজি খিচুড়ি রান্না করে কিছু মহল্লাবাসীকে খাওয়ানো হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয়োজনের পরিধি বৃদ্ধি পায়। এখন দলমত, ধর্ম ও বয়স নির্বিশেষে আশপাশের কয়েকটি মহল্লার মানুষ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে ১৫-২০টি বাড়িতে নারী-পুরুষ ও শিশুরা আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, সিম, টমেটো, গাজর, মুলা, কাঁচামরিচ, বেগুন, শালগম, বরবটিসহ বিভিন্ন সবজি কাটা, বাছাই ও ধোয়ার কাজে ব্যস্ত।

বিভিন্ন বাড়ি থেকে সবজি সংগ্রহ করে দক্ষিণপাড়া মহল্লার বড় ফাঁকা জায়গায় আনা হয়। সেখানে ৮টি অস্থায়ী চুলা বসানো হয় এবং কাটা সবজি সাজিয়ে বিশাল টেবিল তৈরি করা হয়। বিকেল ৪টা থেকে ডেগ চাপিয়ে রান্না শুরু হয়। রাত ৮টা থেকে খাওয়া-দাওয়া শুরু হয় এবং রাত ১টা পর্যন্ত চলে।

আয়োজকদের অন্যতম ফজলুর রহমান জানান, এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো মহল্লার মানুষদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করা। দক্ষিণপাড়া এবং আশপাশের মহল্লার মানুষ সারা বছর এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করেন। উৎসবে আত্মীয়স্বজনও বাড়িতে আসে।

যেহেতু উৎসবটি সর্বজনীন, তাই এর জন্য অর্থ সংগ্রহে কোনো সমস্যা হয় না। মহল্লাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করেন এবং এর ফলে সবজি খিচুড়ির উপকরণের অভাব কখনো হয় না, বরং প্রতিনিয়ত এর পরিমাণ বাড়ছে।

দক্ষিণপাড়া মহল্লার বাসিন্দা এবং সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, খিচুড়ি উৎসব এখন এলাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তরুণেরা মূল ভূমিকা পালন করলেও আশপাশের মহল্লার মানুষও উৎসব আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতায় সহযোগিতা করেন। উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহল্লার মানুষ যেমন আনন্দে মেতে ওঠেন, তেমনি এটি একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।