যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ১ ঘণ্টার ব্যবধানে নাগরপুর সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর, কুয়েতি মসজিদ, ফসলি জমি ও বহু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাকা রাস্তা, স্কুল, মাদ্রসা ও হাটবাজার।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে চোখের পলকেই ধসে পরছে নদীর তীর। ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর জন্য নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি আসবাবপত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে। বাস্তুভিটা হারিয়ে অসহায় পরিবার কেউ কেউ নিকটাত্মীয়র বাড়িতে, আবার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন আতংকে রয়েছে নদীর পাড়ের সহস্রাধিক পরিবার। গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ভিটামাটি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাক্ষসী যমুনার গর্ভে তলিয়ে গেছে কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত ২২ বছরের পুরোনো মসজিদ।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রতি বছর বর্ষা মৌশুমে এই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয় কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে বারবার তাদের ঘরবাড়ি সরাতে হয়। ভিটেমাটি হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
নদীগর্ভে শেষ সম্বল বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন আব্দুল হক (৫০)। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়ে তার বসতবাড়ি। গোটা বসতবাড়ি এখন নদীর পেটে। বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। সহায় সম্বল হারিয়ে তিনি এখন দিশাহারা।
সুফিয়ান (৫২) নামের আরেক ব্যক্তি জানান, তার একটি মাত্র ছাপরা ঘর ছিল। গাছপালাসহ বসতঘরটি সর্বগ্রাসী যমুনায় গিলে খেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শাহ জামাল জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা জমিসহ বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। একই অবস্থা ওই এলাকার কালাম, ছালাম, বাবুল, শাহালম, মতিন ও শাহিনসহ আরও অনেকের।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (প্যানেল) চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূইয়া জানান, যমুনা নদীর তীরে প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতি বছর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙন শুরু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হলে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পশ্চিম সলিমাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্বৃতি দিয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, ভাঙন রোধে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। এ ছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা শেষে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

