বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিজের এলাকা ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ভূমিকম্পের তথ্য নিয়মিত জানা গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি কার্যকর অ্যাপ, যা রিয়েল-টাইমে ভূমিকম্পের তথ্য ও সতর্কবার্তা প্রদান করে।
১. কুয়েকফিড (QuakeFeed)
জনপ্রিয় ভূমিকম্প ট্র্যাকার অ্যাপগুলোর মধ্যে অন্যতম কুয়েকফিড। কাস্টমাইজযোগ্য ইন্টারফেসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমিকম্পের তথ্য মাত্রা অনুযায়ী ফিল্টার ও ট্র্যাক করতে পারেন। অ্যাপটিতে ভূমিকম্পের অবস্থান, মাত্রা, গভীরতাসহ বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প সম্পর্কে রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশনও পাঠানো হয়।
২. আর্থকুয়েক অ্যালার্ট (Earthquake Alert)
ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)-এর তথ্য ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম ভূমিকম্পের তথ্য সরবরাহ করে এই অ্যাপ। ব্যবহারকারীরা অবস্থান, সময় ও মাত্রা অনুযায়ী তথ্য ফিল্টার করতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের অবস্থান মানচিত্রে দেখার সুবিধাও রয়েছে।
৩. আর্থকুয়েক নেটওয়ার্ক (Earthquake Network)
ইন্টারঅ্যাক্টিভ এই অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের নিজেদের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে একটি কমিউনিটিভিত্তিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের অবস্থান ও ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুযায়ী নোটিফিকেশনও কাস্টমাইজ করতে পারেন।
৪. লাস্ট কুয়েক (LastQuake)
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ভূমিকম্প হলেই দ্রুত নোটিফিকেশন পাঠায় লাস্ট কুয়েক। মানচিত্রের মাধ্যমে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, তীব্রতা ও কেন্দ্রস্থলের গভীরতা দেখানোর পাশাপাশি রিয়েল-টাইম ছবি ও তথ্যও প্রদর্শন করে। এছাড়া ভূমিকম্পের আগে ও পরে করণীয় সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয় অ্যাপটি।
৫. মাইশেক (MyShake)
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে উদ্ভাবিত মাইশেক অ্যাপটি স্মার্টফোনের সেন্সর ব্যবহার করে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠায়। একই সঙ্গে এটি নাগরিকদের অংশগ্রহণে পরিচালিত গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করে, যা ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং আগাম সতর্ক হওয়ার জন্য এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অ্যাপই শতভাগ নির্ভুল আগাম পূর্বাভাস দিতে পারে না। তাই সরকারি সতর্কবার্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

