ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

বগুড়ার সেই তিন ইউনিয়নের নাম নিজেদের গ্রামের নামে চায় গ্রামবাসী

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় তার দুই ছেলে ও বংশের নামে নামকরণ করা তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে কেউ আপত্তি জানাননি। তবে অংশগ্রহণকারী গ্রামবাসীরা ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম নিজ নিজ গ্রামের নামে রাখার প্রস্তাব দেন। এ কারণে একটি ইউনিয়নে আগামী বৃহস্পতিবার পুনরায় গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীর ছোট ছেলে দিগন্তের নামে নামকরণ করা ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’-এর নাম পরিবর্তন বিষয়ে স্থানীয় ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় গণশুনানি শুরু হয়। ইউনিয়নটির আটটি গ্রামের মোট ১৭ হাজার ৫৫৯ জন বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত কেউই দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানাননি।

তবে রহবল এলাকার বাসিন্দারা গণশুনানি প্রত্যাখ্যান করে তাদের এলাকায় পৃথকভাবে আরেকটি গণশুনানির আয়োজনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেন। সেই গণশুনানি আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।

ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গণশুনানির দায়িত্বে থাকা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা এবং দিগন্ত ইউনিয়নের প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গণশুনানিতে ১ হাজার ২০৮ জন রহবল নামের প্রস্তাব করায় সেখানে পৃথক আরেকটি গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’-এর নাম পরিবর্তনের জন্য আটটি এলাকার নামে ইউনিয়ন পরিষদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবদাতার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮২০ জন, যেখানে ইউনিয়নটির মোট জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭। অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী নিজেদের গ্রামের নামেই ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

স্থানীয় জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই গণশুনানিতে ১১টি গ্রামের মানুষ অংশ নেন।

গণশুনানির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহাবুব হাসান চৌধুরী বলেন, যে এলাকার নাম সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব পাবে, সেই নামেই ইউনিয়নের নামকরণ করা হবে। তবে এখনো প্রস্তাবগুলোর হিসাব সম্পন্ন হয়নি।”

অন্যদিকে ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’-এর নাম পরিবর্তনের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ছয়টি গ্রামের নাম প্রস্তাব করেছেন। ১৩টি গ্রামের মধ্যে বেতগাড়ি, আলিয়ারহাট ও হরিপুর নাম সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব পেয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কয়েকজন বাসিন্দা ‘মীরবাড়ি’ নাম বহাল রাখার পক্ষেও মত দিয়েছেন। বেতগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ওই ইউনিয়নের গণশুনানির দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, কোন নাম কতটি প্রস্তাব পেয়েছে, তা এখনো গণনা করা হয়নি। আগামীকাল গণনা শেষে রেজুলেশন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি এবং তার দুই ছেলের নামে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের নির্দেশে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম বাতিল করে স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নামকরণের প্রক্রিয়া চলছে।