ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ছয় বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১২:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শুয়াকৈর সেতু ২০২০ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়ার ছয় বছর পরও সংস্কার করা হয়নি। ফলে দুই উপজেলার প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই পাশে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর-হুদুর মোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এইচ এন্টারপ্রাইজ কাজ সম্পন্ন করে এবং ২০০৬ সালে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

নির্মাণের ১৪ বছর পর, ২০২০ সালের ২১ জুলাই বন্যার তীব্র স্রোতে সেতুর দুটি পিলার ও দুটি গার্ডার ধসে পড়ে। একপর্যায়ে মাঝখানের তিনটি স্প্যানসহ প্রায় ৬০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলার চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়ীয়া, বীর বড়বাড়ীয়া, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনা বাড়ী, চরহাট বাড়ী, সিধুলী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রি পাজবাড়ী, খন্দকার বাড়ী, চরছাতারিয়া, আদ্রা ও শুয়াকৈরসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এবং পাশের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী, সদরাবাড়ী ও রায়েরছড়া গ্রামের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে অস্থায়ী কাঠের সেতুই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষাকালে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, বৃদ্ধ ও নারীসহ সব শ্রেণির মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

নৌকা পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

স্থানীয়রা বলেন, সেতু ভেঙে গেছে, রাস্তাও নেই। চলাচল করতে পারছি না। সেতুটি ভাঙার পর থেকে আমাদের কষ্টের শেষ নেই। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। নিম্নমানের কাজ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই সেতুটি ভেঙে গেছে।

শুয়াকৈর এলাকার কৃষক আব্দুল মোতালেব বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। শহরে মালামাল নেওয়া যায় না, আবার শহরের ব্যবসায়ীরাও এখানে এসে পণ্য কিনতে চান না। অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হয়। ফলে আমরা সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনসাধারণকে এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, সেতুটি সংস্কারের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। শুয়াকৈর সেতু সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।