ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

সামুরাই হাতে ভয়ংকর কিশোররা

ইকবাল হাসান ফরিদ
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

একসময় রাজধানীর অন্যতম শান্ত, শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল মোহাম্মদপুর। সাতমসজিদ, শিয়া মসজিদ, আসাদগেট, রায়েরবাজার বধ্যভূমি এবং অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে এলাকাটির আলাদা পরিচিতি ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই পরিচয়ের ওপর যেন ছায়া ফেলেছে অপরাধের এক অন্ধকার বাস্তবতা। এখন সন্ধ্যা নামলেই মোহাম্মদপুরের অনেক এলাকায় আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে উঠেছে কথিত ‘সামুরাই বাহিনী’। ধারালো চাপাতি ও সামুরাই (এক ধরনের ধারালো তলোয়ার) হাতে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অর্ধশতাধিক গ্যাংয়ের ৫ শতাধিক ভয়ংকর কিশোর-তরুণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ও কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর, বসিলা, রায়েরবাজার ও চাঁদ উদ্যানসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে তারা গড়ে তুলেছে সমান্তরাল এক অপরাধ অর্থনীতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেপ্তার সত্ত্বেও পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না।

দিনের আলোতে ব্যস্ত আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক চিত্র দেখা গেলেও রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। বেড়িবাঁধ, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, নবোদয় হাউজিং, শেখেরটেক, মনসুরাবাদ, তাজমহল রোড এবং আদাবরের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে চড়ে দাপিয়ে বেড়ায় অপরাধীরা। অনেকের মুখ ঢাকা থাকে মাস্ক বা কাপড়ে। হাতে থাকে সামুরাই, চাপাতি, ছুরি কিংবা অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, মাদক কারবার এবং আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষ এখন মোহাম্মদপুর এলাকায় নিত্যদিনের ঘটনা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এসব গ্যাংয়ের পরিচিতি পেয়েছে ‘সামুরাই বাহিনী’ নামে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক অপরাধী গ্রুপ এখনো সক্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে পাটালী গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, অ্যালেক্স গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, লও ঠেলা গ্রুপ, ফরহাদ গ্রুপ, আর্মি আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ, আকবর গ্রুপ, কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ, রক্তচোষা জনি গ্রুপসহ আরও অনেক চক্র।

পুলিশ বলছে, একেকটি গ্রুপে সদস্যসংখ্যা সাধারণত ১৫ থেকে ২০ জন। তাদের আয়ের প্রধান উৎস মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। একটি গ্যাং দুর্বল হলে দ্রুত তার জায়গা দখল করে নেয় আরেকটি গোষ্ঠী।

একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদপুরকে কার্যত ভাগ করে নিয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে অন্তত ১৬টি বড় গ্যাং। এসব গ্যাংয়ে ২৫১ জনের বেশি সদস্য রয়েছে। যারা নিয়মিত আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। আর এসব গ্যাংয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই বেড়ে উঠছে ছোট ছোট অন্য গ্যাংগুলো।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরোনো কিছু গডফাদারের প্রভাব কমলেও অপরাধ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। বরং সেই শূন্যস্থান পূরণে সক্রিয় হয়েছে ছোট ছোট সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করা হচ্ছে আধিপত্যের যুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, টিকটক, মেসেঞ্জার ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ব্যবহার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভার্চুয়াল দাপট দেখিয়ে কিশোরদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে অপরাধী নেটওয়ার্কে।

গত ১৬ জুন আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় বিকাশ এজেন্টের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে। ছিনতাইকারীদের ধরতে গেলে পুলিশের ওপর সামুরাই ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়।

তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, হামলায় জড়িতরা ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’-এর সদস্য। গত বছর গ্রেপ্তার হয়ে আনোয়ার কারাগারে থাকলেও এলাকায় সক্রিয় রয়েছে তার গ্যাং। পরে অভিযানে ওই গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাইদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার পরই এলাকায় বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়।

এদিকে গত ১৯ জুন দুপুরে মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ হাউজিং এলাকায় নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হন স্থানীয় এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা। হামলার পর অস্ত্র উঁচিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে নির্বিঘ্নে এলাকা ছাড়তে দেখা যায় হামলাকারীদের। এর আগে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার বাসায় ফেরা দুই বোন নূরজাহান রোডে নিজেদের বাসার সামনে নামার পর অস্ত্রের মুখে লাগেজ, ব্যাগ ও মোবাইল ফোন খোয়ান। তদন্তে পুলিশ জানায়, একটি চক্র পিকআপভ্যান নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ বুঝে চাপাতি ও সামুরাই দেখিয়ে তারা মালামাল ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তাররা পেশাদার ছিনতাইকারী। তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা ছিল। তারা গ্রেপ্তারও হয়েছিল, কিন্তু জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের অপরাধ আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মোহাম্মদপুর থানার আয়তন অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। যে কারণে অপরাধ কর্মকাণ্ড বেশি সামনে আসছে।’

তিনি জানান, প্রতি মাসে ৮/৯শ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তবে নানা ফাঁকফোকরে এরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয় ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমন। এর তিন দিন পর সাদেক খান ইটখোলার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে। নিহত দুজনই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং একাধিক মামলার আসামি ছিল। তদন্তে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু এই দুটি ঘটনাই নয়, গত দুই বছরে মাদক, চাঁদাবাজি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্বে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজারের বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বিপুলসংখ্যক সামুরাই, চাপাতি, ছুরি ও অন্যান্য অস্ত্র।

অপরাধীদের হাতে হাতে এসব ধারালো চাপাতি ও সামুরাই আসে কীভাবে- এমন প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর মিলেছে জেনেভা ক্যাম্পের একজন বাসিন্দার কাছ থেকে। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশ এলাকায় বেশ কয়েকটি কামারের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় অর্ডার দিয়ে এসব ধারালো অস্ত্র তৈরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের টানা একের পর এক অভিযানের মাঝেও এলাকায় ২০-২৫টি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের মোট সদস্যসংখ্যা দুইশ থেকে আড়াইশ। একদিকে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে, অন্যদিকে গ্যাংয়ে নতুন সদস্য যুক্ত হচ্ছে। এ কারণে নেটওয়ার্কগুলো টিকে যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জেনেভা ক্যাম্প, বেড়িবাঁধ ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এখনো সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। এসব গ্যাংয়ের অর্থের প্রধান উৎস মাদক ব্যবসা। সেই অর্থে কেনা হয় অস্ত্র, আর অস্ত্রের জোরে চলে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মাদক, অস্ত্র ও কিশোর গ্যাং এখন একই অপরাধচক্রের তিনটি স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

নুরজাহান রোডের এক ব্যবসায়ী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন শুধু ছিনতাইয়ের ভয় নয়। অপরাধীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকেই টার্গেট করা হয়।’

মোহাম্মদপুরের অপরাধ জগতের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রক্তচোষা জনি’ ও ‘কবজিকাটা আনোয়ার’। দুজনই ধরা পড়েছে। কিন্তু তাদের অনুসারীরা এখনো সক্রিয়। একজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষায়, জনি ও আনোয়াররা ধরা পড়েছে, কিন্তু তারা শেষ হয়ে যায়নি। একজন গেলে আরেকজন উঠে আসে। এই মন্তব্যই যেন মোহাম্মদপুরের অপরাধ বাস্তবতার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিচ্ছবি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর এলাকায় বসানো হবে প্রায় ৭০০ ক্যামেরা। ডিএমপির তথ্য মতে, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। পাশাপাশি ব্লক রেইড, চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, শুধু গ্যাংলিডার গ্রেপ্তার করে সমস্যার সমাধান হবে না। ভাঙতে হবে পুরো অপরাধ নেটওয়ার্ক, বন্ধ করতে হবে মাদক ও চাঁদাবাজির অর্থের উৎস। তার মতে, জেনেভা ক্যাম্পসহ অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে অপরাধমুক্ত করা, গ্যাং সদস্য ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনা জরুরি।

এদিকে র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, “অপরাধপ্রবণ এলাকায় ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ বা কঠোর আইন প্রয়োগের কৌশল নেওয়া হয়েছে। অভিযান পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।”

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘চেকপোস্ট ও চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’

এদিকে ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ এলাকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস কমাতে দ্রুত ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগের ফলে মোহাম্মদপুরের মানুষ দ্রুত স্বস্তি ফিরে পাবে বলে তিনি আশাবাদী। মোহাম্মদপুরকে অপরাধমুক্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কঠোর হুঁশিয়ারি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোহাম্মদপুরের বর্তমান বাস্তবতা বলছে, এটি আর শুধু আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রজন্মগত সংকটেও রূপ নিয়েছে। ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতির জনপদ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরকে আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। নইলে ‘সামুরাই বাহিনী’র ছায়া আরও দীর্ঘ হতে পারে।