১১ দলীয় জোটে যাচ্ছে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, দেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে কোনোভাবেই প্রতারণা করা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা, ইসলামের আলোকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ লক্ষ্য থেকে তারা কখনো বিচ্যুত হতে পারে না।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতার কারণেই সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টনের বিষয়টি সামনে আসে, যেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও যুক্ত ছিল। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ইসলামপন্থি শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে প্রচেষ্টা ও সাধনা চালানো হয়েছিল, শেষ পর্যায়ে এসে তা প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে না—এমন একটি আশঙ্কা তৈরি হয়। এই শঙ্কা থেকেই আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে, ইসলামের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শকে আমাদের নিজস্বভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
তিনি বলেন, আমরা জানি সামনে আমাদের রাজনৈতিক পথচলা সহজ নাও হতে পারে। কারণ আমরা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি করি না। আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসলাম। আমরা নীতি, আদর্শ ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে, এমনকি ন্যায়বিচারের প্রশ্নেও আমরা বৈরিতার মুখে পড়েছি।
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। এর মধ্যে আপিলে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বাকি ২৬৮ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাদেরকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না এবং সবাই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি। তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনসমর্থন রয়েছে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে আদর্শিক ও নৈতিক দিক থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কারও চেয়ে দুর্বল নয়।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন যে, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এমনকি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট এক নারী নেত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা আশ্বস্ত হয়েছেন যে জামায়াত শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই তথ্যগুলো যখন আমাদের সামনে আসে, তখন বিষয়টি আমাদের কাছে একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়—আমরা যে লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করছি, সেই লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো একটি বাস্তব সুযোগ যখন তৈরি হয়েছে, তখন যারা প্রধান শক্তি হিসেবে সামনে রয়েছে, তারাই যদি ইসলামী আদর্শ ও ইসলামী আইনের প্রশ্নে আপস করে, তাহলে সারা দেশে যে কর্মী ও সমর্থকরা ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। সেই স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।


