ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখমের জেরে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ইব্রাহিম হোসেন কালু। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে সন্ত্রাসী ঘটনায় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে কথিত ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে। এরপর ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০)। এ ঘটনায় তার সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালু ওই গ্রামের সোনা গাজীর ছেলে এবং আহত শুভ একই গ্রামের রহিমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল কালু বাহিনীর বিরুদ্ধে। বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি তাকে চলতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আটক করে। এরপর দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত ১০ জুন জেল থেকে জামিনে বের হন। জেল থেকে বের হয়েই অভিযোগ রয়েছে, পুনরায় আগেরকার কর্মকাণ্ড শুরু করে। তার বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার ওপর হামলা চালায় কালু ও তার সহযোগীরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন গোলাম মোস্তফা।

হামলার খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা কালু ও তার সহযোগীদের ধাওয়া করে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, ইব্রাহিম হোসেন কালুর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।