ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের শৃঙ্খলাভঙ্গ থেকে উদ্ভূত দলগুলো পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এনসিপি) আবার কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হতে পারে এই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে ক্রমেই জোর পাচ্ছে।
যদিও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল তৃণমূলের সঙ্গে পুনঃএকীভূতকরণের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবু মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা নানা পাটোলে এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নানা পাটোলে সাংবাদিকদের বলেন, “র্মনিরপেক্ষ ও সমমনা দলে বিশ্বাসী দলগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে মিলিত হওয়ার দিকে আগ্রহী। শরদ পাওয়ার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন। এটি কোনো সাময়িক জোট নয়, সম্পূর্ণ একীভূতকরণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি (এনসিপি) আগে থেকেই একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে বিভিন্ন কারণে তা স্থগিত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোট বিভাজন রোধ করতে ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী দলগুলোর এক প্ল্যাটফর্মে আসা গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতও কংগ্রেস থেকে আলাদা হওয়া ছোট দলগুলোকে পুনরায় কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনতে শরদ পাওয়ারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। রাউত বলেছেন, কংগ্রেসকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
তবে এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি কৌশলীভাবে বলেন, প্রথমে বৃষ্টি হবে, তারপর দেখা যাবে ছাতা নেব নাকি রেইনকোট।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও একই ভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস থেকে বের হয়ে আঞ্চলিক দলে পরিণত হওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলো পুনরায় কংগ্রেসে ফিরে আসা উচিত এবং রাহুল গান্ধীকে সর্বসম্মত নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া প্রয়োজন।
গেহলটের মতে, দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানো জরুরি যে ইন্ডিয়ার জোটের নেতা রাহুল গান্ধী। নরেন্দ্র মোদি এবং রাহুল গান্ধীর এমন স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ভোটের ধরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতিহাসে দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে শরদ পাওয়ার, পি এ সাংমা ও তারিক আনোয়ার কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে এনসিপি গঠন করেন।
সম্প্রতি তৃণমূল ও কংগ্রেসের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক হওয়ায় এই জল্পনা আরও বাড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার পক্ষে মত দেন।
তবে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট যদি কোনো একীভূতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তা সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকেই আসতে হবে। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শরদ পাওয়ার কংগ্রেসে ফিরবেন কি না, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

