× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn
বাগানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

শখের আঙুর চাষে শিক্ষকের সাফল্য

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:০৫ এএম

শখের আঙুর চাষে  শিক্ষকের সাফল্য

সাধারণত আঙুর চাষের কথা উঠলে চোখে ভেসে ওঠে বিদেশ কিংবা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বাগান। সেই প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক কৃষিপ্রেমী শিক্ষক। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন তার সাফল্যের নতুন গল্পে পরিণত হয়েছে। সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষি শিক্ষক আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন ধরে কৃষির প্রতি আগ্রহী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ড্রাগন ফল, আপেল কুল ও ভারতীয় কুল চাষে সফলতা অর্জন করেছেন। তবে এবার তার নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল আঙুর চাষ।

প্রায় ৯ মাস আগে বাড়ির পাশের প্রায় এক বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখে ধাপে ধাপে বাগান গড়ে তোলেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় তিনি সফলতা পান।

বর্তমানে তার বাগানে বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিকÑ এই পাঁচ জাতের আঙুর ফলছে। প্রতিটি গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় আঙুর। শুরুতে চারটি বাইকুনুর চারা রোপণ করে একটি গাছ থেকেই ৭ থেকে ৮ কেজি ফল পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে উৎসাহিত করে।

আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শুরুতে এটি ছিল শুধুই শখ। এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।’ তার এই বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষ। অনেকেই বাগান পরিদর্শন করে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং চারা সংগ্রহ করছেন।

দর্শনার্থী আল-আমিন বলেন, ‘ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে সরাসরি এত আঙুর ফলতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরাও চারা লাগানোর কথা ভাবছি।’ স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ সম্ভব হবে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, ‘গত বছরও সিংড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের ফলন আশাব্যঞ্জক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সিংড়ার এই শিক্ষক আব্দুল আজিজের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। শখ থেকে শুরু করে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফল বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় পৌঁছানো এই আঙুর বাগান এখন সিংড়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!