ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

জানালেন আইজিপি

ডিএমপির নতুন বিভাগ হচ্ছে পূর্বাচল বসছে চার থানা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মেগাপ্রকল্প পূর্বাচল নতুন শহর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূর্বাচলকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের অধীনে এর সামগ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে পূর্বাচল এলাকায় একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

আইজিপি জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ডিএমপির চারটি নতুন থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইন স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ গতিশীল করতে তিনটি উপ-কমিশনারের (ডিসি) অফিস স্থাপনের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পূর্বাচলের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।  এই নতুন ও স্বতন্ত্র বিভাগের জন্য পুলিশের প্রায় ছয় হাজার ৫২৪ জন নতুন জনবল সৃষ্টির একটি প্রস্তাবনা সরকারের বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪টি থানা, ৬টি তদন্তকেন্দ্র এবং ২টি পুলিশ লাইনস্ স্থাপনের জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত  নেয়। তারই অংশ হিসেবে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পুলিশের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মাধ্যমে। পূর্বাচলকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন বিভাগে ৩টি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থানাসমূহ ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। পরবর্তী সময়ে রাজউক পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে ২৯.২১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। যার মধ্যে ১৮.৬৩ একর জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াধীন আছে। আগামীতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপির অধীনে এনে এখানে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনানের তত্ত্বাবধানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬,৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পূর্বাচলে রাজউকের মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন পূর্বাচলকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার পরিচয় বহন করে। এর মাধ্যমে মেগাসিটি ঢাকার আয়তন ও কলেবর যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও একটি সুসংগঠিত কাঠামো পাবে। যা ফলস্বরূপ নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এই প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে। পুলিশের অবস্থান ও তৎপরতা জনমনে আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা তৈরি করবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হবে, তার একটি বরকাউ পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্প ১নং সেক্টরে গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যটি প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় পশি পুলিশ ক্যাম্প, যার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সেই ক্যাম্পটিও উদ্বোধন করা হবে। ক্রমান্বয়ে অন্যান্য থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হবে।

অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন পূর্বাচলকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার পরিচয় বহন করে। এর মাধ্যমে মেগাসিটি ঢাকার আয়তন ও কলেবর যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও একটি সুসংগঠিত কাঠামো পাবে। যা নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।’