ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৭:১০ এএম

সামান্য বৃষ্টিতেই রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে হাঁটুপানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে সামান্য বৃষ্টি হওয়ার পরই স্কুলের রাস্তায় পানি জমে যায়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি। পানি জমে থাকায় হিন্দুপাড়া ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলও ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থী সাইকা, হালিমা, সোহান, হানজালা ও অন্যরা জানান, ‘বৃষ্টির কারণে রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়, তাই আমরা স্কুলে যেতে পারিনি। পানি থাকলে হাঁটা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, স্কুলের পশ্চিম দিকে নেপালের দোকান থেকে অনন্তর দোকান পর্যন্ত ড্রেন থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। বিলাশের চা স্টল থেকে হিন্দুপাড়া পর্যন্ত ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশন হয় না। রাস্তার তুলনায় ড্রেনের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।

স্থানীয় দোকানদার মান্নান, নেপাল ও বিলাশ বলেন, থানা মোড় থেকে উপজেলা সড়ক উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিচু এলাকার স্কুল ও হিন্দুপাড়া রাস্তায় এসে জমে যায়। পাশাপাশি ড্রেন দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় তা ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

হিন্দুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন, নয়ন, সাগর, বিপুল ও বিজয়সহ অনেকে জানান, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। ড্রেন পরিষ্কার না করায় সেখানে পচা কাদা ও আবর্জনা জমে পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পাকা রাস্তা ধীরে ধীরে কাদা ও জলাবদ্ধ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। এদিকে ধানতৈড় গ্রামের উত্তর-পশ্চিম পাড়ায় পানি নিষ্কাশনের পথে বাধা সৃষ্টি করায় রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পরে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল মালেক ম-ল স্থানীয়দের সহযোগিতায় ড্রেনের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করেন, ফলে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরে আসে।

এ বিষয়ে তানোর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।