দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১শর বেশি শিশু। একইদিন ডঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৬৩ জন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৬৭ শিশু। এ সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৯৫১ শিশুর শরীরে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬২৬ শিশুর। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯৩ শিশু। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭১৯ শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৫ হাজার ৫০৯ শিশু। এদের মধ্যে ৮১ হাজার ৮৮২ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আটজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চারজন রয়েছেন। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার পাশাপাশি অনলাইন প্রচার বাড়াতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আচরণ গড়ে ওঠে। পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।

