ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁঁকি দেখছে বিএনটিটিপি

তামাকজাত পণ্যে শুল্ক হ্রাস

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:১০ এএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সংশোধনীসহ পাস হওয়া অর্থবিলে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির বিষয়টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে নিকোটিনজাত দ্রব্য, তামাকজাত পণ্য ও এর প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর প্রস্তাবিত কর নাটকীয়ভাবে কমানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি’ (বিএনটিটিপি)। গতকাল বুধবার বিকেলে এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিএনটিটিপি জানায়, বাজেটে নিকোটিন পাউচের ওপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্কের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাজেটে প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা, যা বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম। একইভাবে প্রতিটি ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, অথচ বাজারে প্রতিটি ই-সিগারেট বা ভেপের দাম ৫০০ টাকা বা তার বেশি। কেন এসব পণ্যের বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম নির্ধারণ করা হলো, তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বোধগম্য নয়।

সংগঠনটির আরও অভিযোগ, সিগারেট ফিল্টার ও ফিল্টার তৈরির প্রধান উপাদান অ্যাসিটেট টু আমদানিতে প্রস্তাবিত ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে, নিকোটিন পাউচ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে প্রস্তাবিত ৩৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। বিএনটিটিপি’র মতে, রাজস্ব বৃদ্ধির কথা বলে এসব পণ্যে করারোপের কথা থাকলেও, সংশোধিত অর্থবিলে কার্যত তামাক কোম্পানির প্রস্তাবনারই প্রতিফলন ঘটেছে। সরকার তামাক কোম্পানির পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। ফলে সস্তায় এসব পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়বে এবং কিশোর-তরুণরা নতুন করে নিকোটিন আসক্তির ভয়ানক ফাঁদে পড়বে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বজুড়ে নিকোটিন পাউচ, ই-সিগারেট ও ভেপের মতো পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিস্বরূপ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইরান, ইরাক, ওমান, কাতারসহ বিশ্বের মোট ৪৭টি দেশে এসব পণ্য ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যও ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে এবং আরও অনেক দেশ একই পথে হাঁটছে। এমতাবস্থায়, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বাংলাদেশে এসব পণ্যকে বৈধতা দেওয়া দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত।